ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

ঈদের আগে জাকাত-ফিতরা আদায়ে জরুরি নির্দেশনা জানুন

২০২৬ মার্চ ১৭ ১৮:৪৩:৪৫

ঈদের আগে জাকাত-ফিতরা আদায়ে জরুরি নির্দেশনা জানুন

নিউজ ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসতেই জাকাত ও ফিতরা আদায়ের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। ধর্মীয় এই দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করতে না পারলে ইবাদতের পূর্ণতা ব্যাহত হতে পারে—তাই শেষ সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা জরুরি।

রমজানের সমাপ্তি লগ্নে ফিতরা বা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল। এর মাধ্যমে রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণ হয় এবং দরিদ্রদের ঈদের আনন্দে শরিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। হাদিসে এসেছে, হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন—রাসুল (স.) ফিতরাকে রোজাদারের পরিশুদ্ধি ও অভাবীদের খাদ্যের ব্যবস্থা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

ফিতরা আদায়ের উত্তম সময় হলো ঈদের নামাজের আগেই। তবে দরিদ্ররা যেন আগে থেকেই প্রয়োজন মেটাতে পারে, সেজন্য কয়েকদিন আগেই এটি পরিশোধ করা উত্তম।

পরিমাণের ক্ষেত্রে সাধারণত গম, চাল বা খেজুরের মতো খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফিতরা দেওয়া হয়। তবে বর্তমান সময়ে সহজতার জন্য অর্থমূল্যেও তা দেওয়া যায়। এ বছর নির্ধারিত সর্বনিম্ন ফিতরা প্রায় ১১০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী দেওয়া উচিত।

জাকাত: সম্পদের হক আদায়

জাকাত ইসলামের একটি মৌলিক বিধান, যা সম্পদে দরিদ্রদের অধিকার নিশ্চিত করে। পবিত্র কোরআন-এ বলা হয়েছে, সম্পদের মধ্যে অভাবী ও প্রার্থীদের নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে।

নিসাব অনুযায়ী, কারো কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ, রুপা বা সমমূল্যের সম্পদ এক বছর থাকলে তাকে মোট সম্পদের ২.৫ শতাংশ জাকাত দিতে হবে। বর্তমান সময়ে অনেক আলেম রুপার নিসাব অনুসরণ করার পরামর্শ দেন, যাতে অধিক সংখ্যক মানুষ জাকাতের আওতায় আসে এবং দরিদ্ররা বেশি উপকৃত হয়।

কারা জাকাত ও ফিতরা পাবেন?

পবিত্র কোরআনের সুরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে জাকাত বণ্টনের আটটি খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ফকির, মিসকিন, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি এবং পথিক।

তবে কিছু নির্দিষ্ট আত্মীয়কে জাকাত দেওয়া যায় না। যেমন—নিজের বাবা-মা, দাদা-দাদী, সন্তান-সন্ততি বা স্ত্রীকে জাকাত দেওয়া বৈধ নয়। তবে অভাবী আত্মীয়দের ক্ষেত্রে জাকাত দেওয়া উত্তম হিসেবে বিবেচিত।

শেষ সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

জাকাত বা ফিতরা দেওয়ার ক্ষেত্রে নগদ অর্থ প্রদান অনেক সময় বেশি কার্যকর হয়, কারণ এতে প্রাপক নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করতে পারেন।

এছাড়া এটি ইবাদত হওয়ায় মর্যাদা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। প্রকাশ্যে প্রদর্শন না করে গোপনে প্রদান করা উত্তম।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ফিতরা অবশ্যই ঈদের নামাজের আগে আদায় করতে হবে। নামাজের পরে দিলে তা সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হবে, ফিতরা হিসেবে নয়।

সবশেষে বলা যায়, জাকাত ও ফিতরা কেবল দান নয়—এগুলো সমাজে ভারসাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সঠিক নিয়মে এবং সময়মতো এই ইবাদতগুলো আদায় করলে ঈদের আনন্দ সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়বে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত