ঢাকা, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

বইমেলায় ঢাবি শিক্ষক মুমিত আল রশিদের বই 'ইরানি প্রেমের গল্প : রূপ ও সৌরভ'

২০২৬ মার্চ ১৪ ১৫:৫৯:০০

বইমেলায় ঢাবি শিক্ষক মুমিত আল রশিদের বই 'ইরানি প্রেমের গল্প : রূপ ও সৌরভ'

নিজস্ব প্রতিবেদক: অমর একুশে বইমেলায় এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মুমিত আল রশিদের নতুন বই 'ইরানি প্রেমের গল্প : রূপ ও সৌরভ'। বইটি প্রকাশ করেছে অ‍্যাডর্ন পাবলিকেশন। এ নিয়ে তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯টিতে।

বই প্রসঙ্গে মুমিত আল রশিদ বলেন, ফারসি সাহিত্যের সূচনালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত এশক্ব বা প্রেম একটি প্রধান অনুষঙ্গ, উপাদান ও প্রথা হিসেবে স্বীকৃত। ফারসি গদ্য-পদ্য এই দুই আঙিনায় পা রাখা পাঠক মাত্রই বুঝে যাবেন, প্রেমের উপাদান ছাড়া ফারসি সাহিত্য কখনোই পূর্ণতা পেত না। আধ্যাত্মিক আর ইহজাগতিক প্রেমের অনিন্দ্য যাত্রায় ঐতিহাসিক প্রেমের গল্পগুলো পারস্য সাহিত্য ও সভ্যতার অলঙ্কার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ইরানে অবস্থান ও ফারসি সাহিত্যের অন্দরমহলে পা রাখতেই বাংলাভাষী পাঠককে ফারসি প্রেমের গল্পের রস-আস্বাদন থেকে বঞ্চিত করতে চাইনি। তাই সঙ্গে নিয়ে এসেছি প্রিয় শিক্ষক হাসান জুলফেকারির দীর্ঘ কলেবরের “শত প্রেমের গল্প” সংকলনটি। ফারসি ভাষা থেকে অনুবাদ শুরু করি এদেশের পাঠকের জন্য। এই গ্রন্থে সেখান থেকে চারটি গল্প তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যতে পুরো বইটি অনুবাদের মাধ্যমে ফারসি সাহিত্যের অপরূপ প্রেম সুধা বিলানোর ইচ্ছে পোষণ করছি।

বইটি অ‍্যাডর্ন পাবলিকেশন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ৫৩৫ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

ড. মুমিত আল রশিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। ২০১৯ সালে ইরানের তেহরানে অবস্থিত শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার পাণ্ডুলিপি শাখায় প্রাপ্ত বৈচিত্র্যময় কবিতায় পরিপূর্ণ ‘গুলদাস্তে গুলশানে মা’আনি’ নামক ফারসি মনোগ্রাফটি নিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এটি ইরান থেকে গ্রন্থাকারে ফারসি ভাষায় প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য ইরানের ৬টি জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিয়াল ‘ইউসুফ-জুলেখা’, ‘আসহাবে-কাহাফ’, ‘কারবালা কাহিনী’, ‘বিবি মরিয়ম’, ‘ইসা নবি’, ‘শেহেরজাদ ফরহাদ’সহ ৩৮টি ইরানি চলচ্চিত্র বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য মূল ফারসি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন। যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ১২টি চলচ্চিত্র বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

লেখকের হাত ধরে ২০১৮ সালে এ দেশে প্রথম ইরানি চলচ্চিত্র ‘শাবি কে মহ কমেল শোদ’ (পরিচালক: নার্গিস অবিয়ার) শ্যুটিং হয়। ইরান-বাংলাদেশ যৌথ চলচ্চিত্র ‘দিন দ্য ডে’র ইরানি অংশের উপদেষ্টা এবং জয়া আহসান অভিনীত ‘ফেরেশতে’-এর চিত্র নাট্যকার ও উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতিমধ্যে ফেরেশতে চলচ্চিত্রটি ভারতের গোয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব- ২০২৩, ইরানের ৪২তম আসরের ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব- ২০২৪ ও বাংলাদেশের ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৪ এ প্রদর্শিত হয়েছে। ইরানের ফজর চলচ্চিত্র উৎসবে মানবিক বার্তার জন্য সিনেমাটি পুরস্কার জিতে নেয়। ২০১৮ সালে লেখকের ফারসি থেকে বাংলায় অনূদিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে নির্মিত ‘শারমে বুদা’ প্রামান্যচিত্রটি ইরানের ফজর চলচ্চিত্র উৎসবের ৩৬তম আসরে প্রদর্শিত হয়। ২০২৩ সালে ইরান থেকে প্রকাশিত প্রবন্ধ ‘Bengali translations of Khayyam's Rubaiyat and its Challenges’-এর জন্য আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরিতে অর্জন করেছেন ‘ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড ফর টিচার্স ২০২৫’।

ইতিমধ্যে তিনি থাইল্যান্ড, ইরান, সিরিয়া, চীন ও ফ্রান্সের ইউনেস্কো সদর দফতরে অনুষ্ঠিত কনফারেন্স ও সেমিনারে ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের নানাবিধ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। পারস্য অনুষঙ্গের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর এখন পর্যন্ত প্রকাশিত গ্রন্থ ২০টি এবং বাংলাদেশ, স্পেন, ইরান, অস্ট্রেলিয়া, আজারবাইজান, চীন ও ফ্রান্স থেকে প্রকাশিত প্রবন্ধ মোট ২৫টি। লেখকের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হচ্ছে- ‘ইরানের পথে প্রান্তরে’, ‘ফারসি ব্যাকরণ শিক্ষা’, ‘পারস্যের লোকজ সংস্কৃতি ও উৎসব’ ও ‘দামেস্কের দিনলিপি’।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত