ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

হরমুজে তেলবাহী জাহাজ পাহারা দিতে আমরা প্রস্তুত নই: জ্বালানিমন্ত্রী

২০২৬ মার্চ ১৩ ১৭:৩৯:১১

হরমুজে তেলবাহী জাহাজ পাহারা দিতে আমরা প্রস্তুত নই: জ্বালানিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকার ও জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে প্রস্তুত নয় বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি ও সিএনএনকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন।

ক্রিস রাইট জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এখনকার প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা এবং অস্ত্র উৎপাদনকারী অবকাঠামো ধ্বংস করা। তিনি বলেন, “এটা হয়তো শিগগিরই ঘটবে, কিন্তু এখন সম্ভব নয়। আমরা প্রস্তুত নই। কারণ এই মুহূর্তে আমাদের সমস্ত সামরিক শক্তি ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা এবং এই সক্ষমতা উৎপাদনকারী যাবতীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার কাজে মনযোগ দিয়েছে। আমি এমনটাই মনে করি।”

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী দাবি করেন যে, গত ৪৭ বছর ধরে ইরান যেভাবে হরমুজ প্রণালিকে হুমকির মুখে রেখেছে, সেই ক্ষমতা চিরতরে নিশ্চিহ্ন করতেই যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সেনা পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি পদক্ষেপ না নিত, তবে ইরান তাদের পরমাণু শক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্রের জোরে পুরো প্রণালির নিয়ন্ত্রণ স্থায়ীভাবে নিয়ে নিত। দীর্ঘমেয়াদি এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে এখন আমাদের কিছু স্বল্পমেয়াদি ভোগান্তি (জ্বালানি পরিবহন সমস্যা) সহ্য করতে হবে।”

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করা এই সরু জলপথটি দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই পথে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

ব্রিটিশ সংস্থা ‘ইউকে মেরিটাইম অপারেশন’ (UKMTO)-এর তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে এই প্রণালিতে অন্তত ১০টির বেশি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ২০০ ডলারে নিয়ে যাবে। তবে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী এই সম্ভাবনাকে ‘অসম্ভব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন নৌবাহিনী সরাসরি জাহাজগুলোকে পাহারা না দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ শৃঙ্খল বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত