ঢাকা, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন কবে? সর্বশেষ যা জানা গেল! 

সরকার ফারাবী
সরকার ফারাবী

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৬ মার্চ ০১ ২৩:২৪:৫২

নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন কবে? সর্বশেষ যা জানা গেল! 

সরকার ফারাবী: প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বহুদিনের প্রত্যাশিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চতর বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় থাকা লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য তার বক্তব্যকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। তবে রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার কারণে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

সচিবালয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে কর্মচারী নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মো. আব্দুল খালেক এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ-এর সমন্বয়ক এম এ হান্নানসহ শীর্ষ নেতারা।

বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দল জানায়, প্রতিমন্ত্রী তাদের দাবি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং সহানুভূতির সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, কর্মচারীরা অবশ্যই নতুন পে স্কেলের সুফল পাবেন। তবে দ্রুত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।

পে কমিশনের সুপারিশ: সিদ্ধান্তের টেবিলে

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান-এর নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন নির্ধারিত ছয় মাসের মধ্যে তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসম্বলিত প্রতিবেদন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সরকারের কাছে জমা দিয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কর্মচারী নেতারা স্মরণ করিয়ে দেন, নির্বাচনের আগে ৯ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে যথাসময়ে পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে তারা দাবি করেন।

বৈষম্য ও দ্রব্যমূল্য ক্ষোভের পটভূমি

কর্মচারী সংগঠনগুলোর মতে, ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেল বিশেষ করে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বৈষম্য তৈরি করেছে। গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, বাসাভাড়া ও শিক্ষা ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। অথচ বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীরা আর্থিক চাপে পড়েছেন।

এই বাস্তবতায় দাবি আদায়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। অন্যথায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ধাপে ধাপে কর্মসূচি

দাবি আদায়ে কর্মচারীরা পর্যায়ক্রমে আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করেছে—

৫ মার্চের মধ্যে: স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান।

রমজান মাসজুড়ে: বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিনিধি সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার।

১৫ মার্চের পর: অগ্রগতি না হলে ঈদুল ফিতরের পর (২৮ মার্চ) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা।

সব মিলিয়ে, নবম পে স্কেল এখন সরকারের নীতিনির্ধারণী টেবিলে। কর্মচারীদের প্রত্যাশা দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ঘোষণা আসুক। আর সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ আর্থিক বাস্তবতা ও জনঅভিলাষের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।

এখন নজর ১৫ মার্চের আগে সরকারের পক্ষ থেকে কী বার্তা আসে এবং নবম পে স্কেলের ঘোষণা কত দ্রুত বাস্তব রূপ পায়।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত