ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কাল শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন

২০২৬ জুন ০৬ ২২:২৬:২২

কাল শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন, যা চলতি বছরের বাজেট অধিবেশন হিসেবে পরিচিত, আগামীকাল রোববার শুরু হচ্ছে। এ অধিবেশনেই উপস্থাপন করা হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট।

রোববার বেলা ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে। সাধারণত বাজেট অধিবেশন তুলনামূলক দীর্ঘ সময় ধরে চলে। এবারের অধিবেশন কতদিন চলবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে অধিবেশন শুরুর আগে জাতীয় সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনের কার্যসূচিতে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ নিষ্পত্তির বিষয় রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি জ্বালানি খাতের উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে গঠিত বিশেষ কমিটি সংসদে তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।

শনিবার বিকেলে সংসদের এলডি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানান, ১১ জুন নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে এবং ১৫ জুন চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হবে। এরপর ১৬ জুন থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাস করতে হবে। এ কারণে প্রয়োজন হলে প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দুই দফা সংসদ অধিবেশন পরিচালিত হতে পারে। এ অধিবেশনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিলও উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলে। ওই অধিবেশনে ২৯ এপ্রিল সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সে সময় বিরোধী দলের কাছ থেকে পাঁচজন সদস্যের নাম চাওয়া হয়েছিল। তবে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো নাম জমা দেওয়া হয়নি।

প্রস্তাবটি উত্থাপনের পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের ভিন্নমত রয়েছে এবং আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, বাজেট অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে সরকারের কোনো অসুবিধা নেই।

বিরোধী দলের সূত্রগুলো বলছে, তারা সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটিতে অংশ নেওয়ার পক্ষে নয়। তাদের মতে, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা উচিত।

এখন পর্যন্ত বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম জমা না পড়ায় বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়টি অনিশ্চিত রয়ে গেছে। তবে সরকারি দল এখনও আশাবাদী যে বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত প্রতিনিধি মনোনয়ন দেবে। চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও বলেছেন, সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য এবং এ বিষয়ে বিরোধী দল ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেই তাদের প্রত্যাশা।

উল্লেখ্য, সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রস্তাবিত বিশেষ কমিটিতে মোট ১৭ জন সদস্য থাকার কথা। সরকারি দল ইতোমধ্যে ১২ সদস্যের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। এতে বিএনপি, গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির সাতজন সংসদ সদস্য রয়েছেন। বাকি পাঁচটি আসনের জন্য বিরোধী দলের কাছে নাম চাওয়া হয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের কমেছেসোনার দাম

ফের কমেছেসোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির প্রভাবে আবারও সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে... বিস্তারিত