ঢাকা, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২
ঈদের আগে বেতন নিয়ে অনিশ্চয়তায় মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ যখন দুয়ারে কড়া নাড়ছে, তখন প্রায় ৫০০ মাদ্রাসা শিক্ষকের ঘরে বইছে বিষাদের ছায়া। সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ পেয়েও কেবল প্রশাসনিক জটিলতা এবং গ্রেড বৈষম্যের কারণে তাঁরা এখনও এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। এর ফলে গত জানুয়ারি মাসে কর্মস্থলে যোগদানের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এক টাকাও বেতন পাননি এসব শিক্ষক। সংশোধিত নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে আসন্ন ঈদ বেতন ও বোনাস ছাড়াই কাটানোর তীব্র শঙ্কায় পড়েছেন মাদ্রাসা পর্যায়ের কৃষি বিষয়ের এই শিক্ষকরা।
শিক্ষকদের প্রধান ক্ষোভের জায়গাটি হলো স্পষ্ট গ্রেড বৈষম্য। একই বিষয় ও সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে কৃষি সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১০ম গ্রেড বরাদ্দ থাকলেও মাদ্রাসার ক্ষেত্রে তা ১১তম গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বৈষম্য দূর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে সংশোধিত এমপিও নীতিমালা জারি করার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ১০ম গ্রেড উল্লেখ করে পাঠানো শিক্ষকদের সকল অনলাইন এমপিও ফাইল কেন্দ্রীয় প্রোগ্রাম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা ‘রিজেক্ট’ হয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতি মাসের ১ থেকে ৪ তারিখের মধ্যে এমপিও ফাইল পুনরায় পাঠানোর একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। যদি এই কয়েক দিনের মধ্যে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি না হয়, তবে মার্চ মাসেও তাঁদের বেতন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আব্দুল করিম নামে এক ভুক্তভোগী শিক্ষক তাঁর কষ্টের কথা তুলে ধরে জানান, ‘পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। সংসার চালানো, বাবা-মার চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।’ দ্রুত এই জট খোলার জন্য তিনি প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ঈদের আগে এমন করুণ পরিস্থিতিতে পড়ে মো. মাসুদ নামে আরেক শিক্ষক আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, ‘পরিবারের সবাই ঈদের প্রস্তুতির কথা বলছে, কিন্তু বেতন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। আমাদের এমপিও ফাইল ১ থেকে ৪ তারিখের মধ্যে পাঠাতে না পারলে বেতন ও ঈদ বোনাস পাব না। অথচ গ্রেড বৈষম্যের কারণে পাঠানো ফাইল বারবার বাতিল হচ্ছে। তীব্র দারিদ্র্যের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।’ তাঁদের দাবি, শুধু প্রতিষ্ঠানভেদে গ্রেড কমিয়ে দেওয়ায় তাঁরা সামাজিক ও আর্থিকভাবে অপদস্থ হচ্ছেন।
এই সংকট নিরসনে সরকারি পর্যায়ের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষকদের সংশোধিত এমপিও নীতিমালা নিয়ে কাজ চলছে। এটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন শিক্ষামন্ত্রী। এজন্য কিছুটা সময় লাগবে। শিক্ষকদের বৈষম্য দূর করতে কাজ করা হচ্ছে।” তবে শিক্ষা মন্ত্রীর এই চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি ঈদের আগেই সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দিতে পারেনি মন্ত্রণালয়।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ: রেজাল্ট দেখুন এক ক্লিকে
- ইবতেদায়ি বৃত্তির ফল প্রকাশ: মোট বৃত্তি পেল ১১ হাজার ১৮০ জন শিক্ষার্থী
- সুপার এইটে পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড, যেভাবে লাইভ দেখবেন
- পুলিশে ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ: আবেদনের যোগ্যতা ও নিয়মাবলী
- বিএসইসি'র বাঁধা, ডিভিডেন্ড দিতে পারছে না তালিকাভুক্ত কোম্পানি
- প্রকাশিত হলো ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফলাফল, দেখুন এখানে
- হঠাৎ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ঢাকা
- সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে ঢাবির যুগান্তকারী ‘লস রিকভারি প্ল্যান’
- হেটমায়ারের ঝড়ে কপাল পুড়ল জিম্বাবুয়ের, গড়ল রেকর্ড
- জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল কাল, সহজে দেখবেন যেভাবে
- ডুসাসের নেতৃত্বে জিসান-সাবরিন
- একই কক্ষপথে যাত্রা, এক বছর পর তিন মেরুতে তিন কোম্পানি
- সেন্ট্রাল ফার্মা শেয়ার স্থানান্তর কাণ্ডে ডিএসইকে তলব
- জানুন জুনিয়র বৃত্তিতে মাসিক ও বার্ষিক ভাতার পরিমাণ
- ২৬ দিনে ৮ বার ভূমিকম্প; বড় দুর্যোগের আশঙ্কায় দেশ