ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
অপারেশন ছাড়াই সুস্থতার অভিজ্ঞতা শোনালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্ত্রোপচার প্রায় নিশ্চিত—এমন পরিস্থিতি থেকেও শেষ পর্যন্ত ছুরি-কাঁচি ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নিজের সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেছেন, চিকিৎসায় অপারেশনই শেষ সমাধান নয়; প্রয়োজনে বিকল্প পদ্ধতিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে মার্চ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ফেইজে ভর্তি রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ইনডাকশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল তার ব্যক্তিগত চিকিৎসা-অভিজ্ঞতা ও তা থেকে পাওয়া শিক্ষা।
মন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় সহিংস এক ঘটনার মধ্যে তার ডান পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পুলিশের আঘাতে তার পায়ের টেন্ডন ছিঁড়ে যায় এবং তিনি দাঁড়াতে পর্যন্ত পারছিলেন না।
ঘটনার পর ঘনিষ্ঠজন ও অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অপারেশনের পরামর্শ দেন। একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল।
তবে এ সময় এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি ভারতের বেঙ্গালুরুতে যান। সেখানে এক চিকিৎসক সরাসরি পরীক্ষা করে এমআরআই করার নির্দেশ দেন। রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে চিকিৎসক জানান, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই।
মন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, তখন তিনি দাঁড়াতেই পারছিলেন না, অথচ চিকিৎসক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান—অপারেশন ছাড়াই সুস্থ হওয়া সম্ভব।
চিকিৎসক তাকে বিশেষ ধরনের একটি জুতা ব্যবহার করতে দেন ২১ দিনের জন্য এবং নির্দিষ্ট কিছু অনুশীলনের পরামর্শ দেন। নির্ধারিত সময় জুতা ব্যবহারের পর আরও সাত দিন অনুশীলন চালিয়ে যান তিনি। ধীরে ধীরে দাঁড়ানো ও হাঁটার সক্ষমতা ফিরে পান। শেষ পর্যন্ত কোনো অস্ত্রোপচার ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যারা অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা অযোগ্য ছিলেন না। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিকল্প ও কনজারভেটিভ পদ্ধতির দিকেও নজর দিতে হবে।
রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চিকিৎসা পেশায় শেখার শেষ নেই। প্রতিনিয়ত নতুন গবেষণা, পদ্ধতি ও জ্ঞানের সঙ্গে নিজেকে হালনাগাদ রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক চিকিৎসায় কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্ট, রিহ্যাবিলিটেশন ও রোগীকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কখন অস্ত্রোপচার প্রয়োজন আর কখন বিকল্প চিকিৎসাই যথেষ্ট—সেই বিচারবোধই একজন চিকিৎসকের প্রকৃত দক্ষতা।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং নবীন রেসিডেন্ট চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন। রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয় সেখানে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের খেলা চলছে: ব্যাটিংয়ে টাইগাররা-দেখুন সরাসরি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৪ এপ্রিল)
- শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সম্ভাব্য সময় জানাল মন্ত্রণালয়
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের রোমাঞ্চকর খেলাটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আনতে প্রবাসীদের উৎসাহের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম
- শীর্ষ ১০ ইহুদিবিদ্বেষী প্রভাবশালীদের তালিকা প্রকাশ করল ইসরাইল
- সময় কমিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার নতুন সিদ্ধান্ত
- বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনিভার্সিটি
- সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশাল সুখবর
- রেকর্ড মুনাফা করে ডিভিডেন্ডে চমক দেখাল ইস্টার্ন ব্যাংক
- কপার টি: নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
- শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দেশবাসীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের নববর্ষের শুভেচ্ছা
- ঋণ জটিলতা ও লোকসানের পাহাড়, তবুও রহস্যজনকভাবে বাড়ছে কোম্পানির শেয়ারদর
- আগের মালিকদের হাতে ফিরছে একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংক