ঢাকা, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ঢাবির নতুন উপাচার্য কে হচ্ছেন? আজ আসতে পারে ঘোষণা

২০২৬ মার্চ ০১ ১১:৪৮:৩১

ঢাবির নতুন উপাচার্য কে হচ্ছেন? আজ আসতে পারে ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: এক নতুন প্রশাসনিক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের পদত্যাগের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ রবিবার (১ মার্চ) যে কোনো সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্যের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী সংকটের পথে না গিয়ে আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কোনো শিক্ষককে ‘ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য’ হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে গত ২২ ফেব্রুয়ারির একটি ঘটনা। ওই দিন বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতির আবেদনপত্র হস্তান্তর করেন। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত তাঁকে অব্যাহতির আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়নি, ফলে তিনি এখনো দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ড. নিয়াজ পদত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ এই পদটি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক গুঞ্জন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই পদের জন্য বর্তমান উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক কেবল একজন দক্ষ শিক্ষকই নন, বরং প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাঁর রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক। রাজনৈতিকভাবে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

রেসের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর সভাপতি এবং বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক। শিক্ষক রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে এই পদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদারে পরিণত করেছে।

এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন আরও কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান এবং সাদা দলের বর্তমান আহ্বায়ক ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানের নাম অন্যতম। বিশেষ করে অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান বর্তমানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর ২৬ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। ওই সময় তিনি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতৃত্বে কারা স্থান পান, সেদিকেই নজর দেশের সকল সচেতন মহলের।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত