ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৬:৪৬:৩১

বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য কেবল ক্ষমতা পরিচালনা নয়, বরং জাতিকে উন্নত চিন্তা ও জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করে একটি সত্যিকারের জবাবদিহিমূলক সমাজ বিনির্মাণ করা।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর জমকালো উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাষ্ট্রদর্শন তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বাংলাদেশের বইমেলার এক অনন্য বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে বইয়ের মেলা হলেও আমাদের অমর একুশে বইমেলা কেবল কেনাবেচার মাধ্যম নয়; এটি আমাদের মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য আত্মত্যাগের এক জীবন্ত স্মারক। তবে তিনি গভীর উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন যে, মেলার আয়তন প্রতি বছর বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে মানসম্মত গবেষণাধর্মী বইয়ের প্রকাশ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়ছে কি না, তা নিয়ে এখন বিশদ ভাববার সময় এসেছে।

বইয়ের গুরুত্ব বোঝাতে প্রধানমন্ত্রী রোমান দার্শনিক মারকুইস সিসেরোর সেই বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো’। তিনি বর্তমান বিজ্ঞান ও গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে জানান, বই পড়া কেবল শখের বিষয় নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের জন্য এক ধরণের শ্রেষ্ঠ ব্যায়াম। নিয়মিত পাঠাভ্যাস মানুষের স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং বার্ধক্যজনিত নানা মানসিক রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। অথচ বর্তমানের তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে বই থেকে বিমুখ করে তুলছে। তিনি সতর্ক করেন যে, ডিজিটাল স্ক্রিনে সময় কাটানো আধুনিক জীবনের অংশ হলেও এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে হবে এবং বইয়ের কালো অক্ষরের গভীরে ডুবে থেকে জ্ঞানার্জনের সেই পুরোনো সংস্কৃতিতে ফিরে আসতে হবে।

বাংলাদেশের পাঠাভ্যাসের একটি করুণ চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ‘সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন’-এর একটি জরিপ উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিশ্বের ১০২টি দেশের মধ্যে বই পড়ার তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। আমাদের দেশের একজন মানুষ বছরে গড়ে মাত্র তিনটি বই পড়েন এবং এই পাঠাভ্যাসে বছরে ব্যয় করেন মাত্র ৬২ ঘণ্টা। এই পিছিয়ে থাকা অবস্থান থেকে উত্তরণে বইমেলাকে কেবল নিছক উৎসব হিসেবে না নিয়ে একে সত্যিকারের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের সূতিকাগার হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বইমেলার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি বৈশ্বিক প্রস্তাবনা পেশ করেন। তিনি বলেন, ভাষা শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত এই অমর একুশে বইমেলাকে আগামী বছরগুলোতে ‘আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে আয়োজন করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে আমাদের নাগরিকরা যেমন বিশ্ব সাহিত্যের সাথে পরিচিত হতে পারবেন, তেমনি বহু ভাষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে নিজেদের মেধা সমৃদ্ধ করতে পারবেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে মর্যাদা পাইয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন যে, বইমেলাকে কেবল ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা শহরে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রকাশক ও সংশ্লিষ্টদের সব ধরণের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা দিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বাংলা একাডেমির তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণাবৃত্তি উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং নতুন প্রজন্মকে শেকড় সন্ধানী হওয়ার আহ্বান জানান।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত