ঢাকা, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্পের শুল্কে বড় ধাক্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ববাণিজ্যে আগ্রাসী শুল্কনীতির জেরে যখন উত্তাপ চরমে, তখনই যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ঢালাও শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তবে রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প বাতিল হওয়া ব্যবস্থার বদলে নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। রায়কে ‘ভয়াবহ’ ও ‘অপমানজনক’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, অন্য আইনি পথ ধরে হলেও শুল্কনীতি বহাল থাকবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও অনিশ্চয়তা ঘনীভূত হয়েছে।
উচ্চ আদালত বলেছে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ‘প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না’। রায়ে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য সংরক্ষিত আইন ব্যবহার করে শুল্ক চাপিয়ে ট্রাম্প তার সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করেছেন।
সংবিধান অনুযায়ী শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত—এ কথাই পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টকে এমন অসাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন দেখাতে হবে। তিনি তা করতে পারেন না।
গত এপ্রিল মাসে প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সিদ্ধান্তকেই অবৈধ ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। রায়ের পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে একে 'অপমানজনক' বলে মন্তব্য করেন।
হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আদালতের কিছু সদস্যকে নিয়ে লজ্জিত। আমাদের দেশের স্বার্থে সঠিক কাজটি করার সাহস দেখাতে না পারায় আমি তাদের নিয়ে পুরোপুরি লজ্জিত’। প্রায় ৪৫ মিনিটের বক্তব্যে তিনি রায়ের তীব্র সমালোচনা করেন এবং জানান, অন্য আইনের আওতায় শুল্ক আরোপের বিকল্প খুঁজে বের করবেন। বক্তব্যজুড়ে বিচারকদের প্রতি তার ব্যক্তিগত অসন্তোষও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে বিকল্প আছে, দারুণ বিকল্প-এবং এতে আমরা আরও শক্তিশালী হব।’ শুল্ককে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরে তিনি তার অবস্থানে অনড় থাকার ইঙ্গিত দেন।
আদালতের এই সিদ্ধান্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, যারা এই শুল্ককে চ্যালেঞ্জ করেছিল। উচ্চ শুল্কের চাপ দেখিয়ে বিভিন্ন দেশকে বাণিজ্য সমঝোতায় বাধ্য করার কৌশল ট্রাম্প নিয়েছিলেন—রায়ের ফলে সেই অবস্থান দুর্বল হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এছাড়া গত এক বছরে আদায় করা বিপুল শুল্ক রাজস্বের একটি অংশ ফেরত দিতে হতে পারে—এমন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসন বিকল্প আইনি পথ ব্যবহার করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, ফলে বড় নীতিগত পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা আপাতত কম।
ট্রাম্পের শুল্ক বাতিলে ছয় বিচারক একমত হন। তাদের মধ্যে উদারপন্থি ও রক্ষণশীল—দুই শিবিরের বিচারকরাই রয়েছেন। এলেনা ক্যাগান, সোনিয়া সোটোমেয়র ও কেটাঞ্জি ব্রাউন জ্যাকসন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের মনোনীত। অন্যদিকে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসকে মনোনীত করেছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ। নিল গরসাচ ও অ্যামি কোনি ব্যারেটকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন ট্রাম্প নিজেই। ট্রাম্প তাদের কাউকেই সমালোচনার বাইরে রাখেননি।
রায় কার্যকর নিয়ে অনিশ্চয়তা
রায় বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইতোমধ্যে কিছু বড় মার্কিন কোম্পানি পরিশোধ করা শুল্ক ফেরতের দাবিতে আদালতে গেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের ওপর রায় বাস্তবায়নের দায় বর্তাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসন চাইলে এমন আইন ব্যবহার করতে পারে, যা প্রেসিডেন্টকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমিত হারে শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দেশ বা খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব হবে। আদালত আবার কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক বহালও রেখেছে, যা নীতি পুনর্গঠনের সুযোগ দিচ্ছে।
নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প ‘সেকশন ১২২’ নামে আগে খুব কম ব্যবহৃত একটি আইনের আওতায় নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছেন। এ বিধান অনুযায়ী, কংগ্রেস হস্তক্ষেপের আগে সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যায়। নতুন শুল্ক ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্ত, তারাও এখন সেকশন ১২২-এর আওতায় ১০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়বে। তবে প্রশাসন আশা করছে, পূর্বে দেওয়া ছাড়গুলো তারা বহাল রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রয়োজনে সেকশন ২৩২ বা সেকশন ৩০১-এর মতো অন্যান্য ব্যবস্থাও বিবেচনায় নিতে পারে হোয়াইট হাউস, যেগুলো জাতীয় নিরাপত্তা বা অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার যুক্তিতে শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়। সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে—আদালতের ধাক্কা সত্ত্বেও শুল্ক ইস্যুতে লড়াই থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না ট্রাম্প।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: কখন ও কীভাবে সরাসরি দেখবেন আজকের খেলা?
- ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: সরাসরি Live-এ খেলা দেখুন এখানে
- ২০২৬ সালে কোন দেশে কত ঘণ্টা রোজা?
- ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শেষ, এক নজরে দেখে নিন ফলাফল
- সুন্নাহ মেনে সেহরি খাওয়ার সময় ও বিশেষ কিছু নিয়ম
- নতুন রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনায় ঢাবির সাবেক অধ্যাপকসহ যারা
- রমজান মাসের ছুটি নিয়ে যা জানাল মাউশি
- পবিত্র রমজানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সময়সূচি প্রকাশ
- দুর্ঘটনার কবলে মেসুত ওজিল ও বিলাল এরদোয়ানের গাড়িবহর
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: সুপার এইটের দুই গ্রুপ ও পূর্ণাঙ্গ সূচি দেখুন এখানে
- কাল থেকে বন্ধ সব স্কুল, রমজানে ছুটির নতুন প্রজ্ঞাপন
- কে কে হচ্ছেন মন্ত্রী? শেষ মুহূর্তের তালিকায় যাদের নাম
- রমজানের প্রথম দিনেই ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ
- ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ
- ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ চলছে: এখানে সরাসরি দেখুন Live