ঢাকা, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২

দুর্নীতির সঙ্গে আপস করবে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়: ববি হাজ্জাজ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৩:২১:৩০

দুর্নীতির সঙ্গে আপস করবে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী পাঁচ বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো দপ্তরে দুর্নীতির ছোঁয়াও লাগতে দেওয়া হবে না এবং ব্যক্তিগতভাবেও আমি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াব না এমন কঠোর শপথ নিয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নজিরবিহীন ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নতুন বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে কলঙ্কমুক্ত রাখাই হবে তাঁর মেয়াদের প্রধান সার্থকতা।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের সুদৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না। এমনকি কাউকে দুর্নীতি করতেও দেওয়া হবে না।” ববি হাজ্জাজ মনে করেন, দেশকে ভালোবাসার প্রকৃত প্রমাণ কেবল রাজপথের আন্দোলনে নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দেওয়ার মাধ্যমে দিতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় এখন থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলবে।

শিক্ষাখাতকে রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করে প্রতিমন্ত্রী এর মানোন্নয়নে তিনটি বিশেষ স্তম্ভের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে। সেটি হচ্ছে ‘কারিকুলাম, ক্লাসরুম ও কনসিস্টেন্সি’।” তাঁর মতে, দেশে প্রচলিত বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে গুণগত সামঞ্জস্য আনা জরুরি। শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে হলে প্রাথমিক স্তরে ভাষা ও গণিত শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ দক্ষ করে তোলার কোনো বিকল্প নেই। প্রয়োজনে পাঠ্যক্রম পর্যালোচনার জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনেরও ইঙ্গিত দেন তিনি।

ভাষার অধিকার ও ইতিহাসের গুরুত্ব তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালির মৌলিক অধিকার আদায়ের অবিনাশী প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, “ভাষা মানুষের সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও মৌলিক অধিকার। একইসঙ্গে নিজের পরিবার, অনুভূতি ও চেতনার সঙ্গে ভাষার সম্পর্ক গভীর। সেই ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাঙালিকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।” দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় একে শহিদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ধাপে ধাপে ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষা চালু করবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে এক্ষেত্রে তাঁর অগ্রাধিকার হলো মাতৃভাষা। তিনি বলেন, ইংরেজি বা অন্য ভাষা শেখানোর আগে শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষায় পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত