ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী: কীভাবে চলবে রাষ্ট্র ও সংসদ?
নিজস্ব প্রতিবেদক: ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে হওয়া ঐতিহাসিক গণভোটে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোট। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোয় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। এখন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সমান্তরালভাবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন—একদিকে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং অন্যদিকে গণপরিষদ হিসেবে নতুন সংবিধান বা রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্পন্ন করা।
গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ আসন বাদে মোট ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৬ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন, যা মোট ভোটারের ৬১.০৩ শতাংশ। এর মধ্যে বৈধ ৭ কোটি ২৭ লাখ ২ হাজার ৩৮৬টি ভোটের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি (৬৮.৫৯%)। অন্যদিকে ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন (৩১.৪১%)। জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নে এই গণভোটের মাধ্যমে বড় ম্যান্ডেট দিল জনগণ।
সংসদ ও গণপরিষদের দ্বৈত ভূমিকা
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের ফলে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথম অধিবেশনের দিন থেকে পরবর্তী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংস্কার কাজ শেষ করবেন। এই সময় তারা একদিকে সংসদ সদস্য হিসেবে আইন প্রণয়ন, বাজেট পাস এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবেন; অন্যদিকে গণপরিষদ সদস্য হিসেবে বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির (মৌলিক অধিকার, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন পদ্ধতি ইত্যাদি) মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কারের খসড়া তৈরি করবেন।
কীভাবে চলবে রাষ্ট্র ও সংসদ?
সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিদ্যমান আইনগুলো কার্যকর থাকবে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থেকে দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। জাতীয় সংসদ ভবনেই নিয়মিত অধিবেশন বসবে। তবে নতুন সংবিধান চূড়ান্তভাবে গৃহীত হওয়ার পর সংসদের বর্তমান কাঠামো, মেয়াদ বা নির্বাচনী পদ্ধতিতে বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
গণভোটে জনগণের এই সম্মতির পর এখন আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি গেজেট প্রকাশ ও রূপান্তরকালীন সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। আন্তর্জাতিক অংশীদার ও উন্নয়ন সংস্থাগুলো এই রাজনৈতিক রূপান্তর পর্বটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। চূড়ান্ত সংবিধান কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশ এক নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তে পদার্পণ করবে, যা আগামীর বাংলাদেশে ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বাংলাদেশকে ৩০৫ রানের লক্ষ্য দিল আফগানিস্তান, জবাবে ১৬৯ রান
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)
- শনিবার ঢাকায় বন্ধ যেসব মার্কেট ও দোকানপাট
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন
- সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃ/ত্যুতে রাজনীতিতে শূন্যতা তৈরি হয়েছে: রিজভী