ঢাকা, শনিবার, ২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
বিএনপি'র এই ঐতিহাসিক জয় দেখতে পারলেন না দেশনেত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল দেশ, কিন্তু সেই মাহেন্দ্রক্ষণে অনুপস্থিত ছিলেন এক পরিচিত মুখ—বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সম্পন্ন হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অনেকেই গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ হিসেবে দেখছেন। অথচ যে নেত্রী আজীবন ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নিয়েছিলেন, তিনি দেখে যেতে পারলেন না দলের এই প্রত্যাবর্তন।
গত ৩০ ডিসেম্বর না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বহুদিন ধরেই তিনি নানা জটিল অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিলেন আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতীক। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি বন্দি জীবন কাটিয়েছেন।
দেশব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবারের ভোটগ্রহণ। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই সম্পন্ন হয় নির্বাচন। দীর্ঘ সময় পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ছিল বাড়তি উৎসাহ ও আবেগ।
সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দিনটিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে বিএনপির নেতাকর্মীদের কণ্ঠে ছিল এক ধরনের আক্ষেপ—যে নেত্রী সারা জীবন গণতন্ত্রের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন, জনগণের স্বার্থে আপস করেননি, সেই খালেদা জিয়া এই ঐতিহাসিক দিনটি দেখে যেতে পারলেন না। দলের অনেকেই মনে করেন, বেঁচে থাকলে এই বিজয়ে তিনিই হতেন সবচেয়ে আনন্দিত।
বেসরকারি ফল অনুযায়ী, বিএনপি ১৭০টি আসনে জয় পেয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা ও বগুড়া—দুই আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনিই হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকা ছেলের অনুপস্থিতিতে দেশে থেকে দলের হাল ধরে রেখেছিলেন খালেদা জিয়া। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ছেলের নেতৃত্বে দলের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনও তিনি দেখে যেতে পারলেন না—এটিই আজ দলের নেতাকর্মীদের বড় বেদনা।
দলীয় কর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন ‘দেশনেত্রী’। তবে সময়ের পরিক্রমায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় এক অভিভাবকসুলভ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। শান্ত, ধৈর্যশীল ও দৃঢ়চেতা এই নেত্রী ক্ষমতার মোহে নয়, বরং দায়িত্ববোধে রাজনীতি করেছেন—এমনটাই মনে করেন তাঁর অনুসারীরা।
২০০৭ সালে সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাঁকে দেশত্যাগে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তখন দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন, দেশের বাইরে তাঁর কোনো ঠিকানা নেই; বাংলাদেশই তাঁর একমাত্র ঠিকানা। এই অবস্থানই তাঁকে ‘আপসহীন’ নেত্রীর মর্যাদা দেয়।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর মৃত্যুর পর রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হন খালেদা জিয়া। সাধারণ গৃহবধূ থেকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তির নেতৃত্বে উঠে আসেন তিনি। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং সেখান থেকেই তাঁর আপসহীন ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, খালেদা জিয়া সব সময় দেশবাসীকে ‘প্রিয় দেশবাসী’ বলে সম্বোধন করতেন। ব্যক্তিগত জীবনের নানা বেদনাদায়ক অধ্যায়ের মধ্যেও তিনি দেশের মানুষকেই নিজের স্বজন হিসেবে দেখেছেন। কারাবাস, অপমান ও একাকিত্বের মাঝেও তাঁর বক্তব্য ছিল—দেশবাসীই তাঁর প্রকৃত শক্তি।
স্বামী হারানো, কারাবন্দি অবস্থায় মাকে হারানো, সন্তান হারানোর বেদনা—একাধিক ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়েও তিনি রাজনৈতিক জীবন চালিয়ে গেছেন। কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দৃঢ় মনোবলই ছিল তাঁর প্রধান শক্তি।
দলের নেতাকর্মীদের মতে, তাঁর নেতৃত্ব না থাকলে হয়তো ১৯৮২-পরবর্তী সময়ে বিএনপির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতো না। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাই গণতন্ত্রের এই বিজয় ও দলের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের মুহূর্তে স্মৃতির কেন্দ্রে আছেন বেগম খালেদা জিয়াই।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- ১২৩তম প্রাইজবন্ড ড্র: দেখে নিন কোন নম্বরগুলো জিতল
- ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ বাসা থেকে উদ্ধার
- ‘সিলটি’ ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবি
- মিমোর মৃ'ত্যু ঘিরে সর্বশেষ যা জানা গেল
- বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে