ঢাকা, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

মুক্ত বাণিজ্যে না প্রস্তুত হলে চাপ বাড়বে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৭:৪১:৪০

মুক্ত বাণিজ্যে না প্রস্তুত হলে চাপ বাড়বে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেছেন, উদার বাণিজ্যের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ব্যবসায়ীরা যদি নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে ব্যর্থ হন, তবে তা দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরসংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ইপিএ চুক্তির ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ জাপানকে যে এক হাজার ৭০টি পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে, তাতে বছরে সম্ভাব্য রাজস্ব প্রভাব ২০ কোটি টাকারও কম হবে।

এ সময় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, এর আগেও বহু পণ্যে শূন্য শুল্ক বিদ্যমান রয়েছে। খাদ্যপণ্য, তুলা ও সুতা এবং বিভিন্ন কাঁচামালে আগেই শুল্ক ছাড় রয়েছে। পাশাপাশি মেশিনারিজে এক শতাংশ শুল্ক রয়েছে। এসব মিলিয়ে মোট এক হাজার ৩৯টি পণ্যে শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, বাকি ট্যারিফ লাইনে ধাপে ধাপে ছাড় দেওয়া হবে, যার সময়সীমা সর্বোচ্চ ১৮ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ডব্লিউটিও কাঠামোর আওতায় বাণিজ্য উদারীকরণ বাধ্যতামূলক হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দীর্ঘ সময়সীমা ব্যবসায়ীদের নিজেদের সক্ষমতা গড়ে তোলার সুযোগ করে দেবে।

তিনি বলেন, এই উদার বাণিজ্য ব্যবস্থার সুফল সরাসরি ভোক্তাদের কাছেও পৌঁছাবে। প্রতিযোগিতা বাড়লে পণ্যের দাম ও গুণগত মানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ ভোক্তারা উপকৃত হবেন।

জাপানের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, এ বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিল্পখাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি আরও বলেন, ইপিএ চুক্তির আওতায় জাপান বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ থেকে জনবল নেবে। এর মধ্যে নার্সিং, শিল্প শ্রমিক, কেয়ারগিভার ও গৃহভিত্তিক কেয়ারগিভার ছাড়াও বিভিন্ন দক্ষ পেশাজীবী অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এমনকি ডাক্তার ও প্রকৌশলীদের জন্যও সুযোগ তৈরি হবে।

উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ যেখানে ৯২টি সেক্টর উন্মুক্ত করেছে, সেখানে জাপান ১২০টি সেক্টর উন্মুক্ত করেছে। এর ফলে একদিকে বাংলাদেশি জনশক্তির বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশীয় বাজারেও নতুন চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হবে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত