ঢাকা, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২
২৬ দফা অগ্রাধিকার দিয়ে জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। জামায়াত ঘোষণা করেছে যে, নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে আগামী পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনায় তারা ২৬টি বিশেষ বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।
জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাধান্য পাওয়া ২৬টি অগ্রাধিকার বিষয় হলো:
১. জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ: দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের আপস না করা।
২. ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ: ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র গঠন।
৩. যুবকদের ক্ষমতায়ণ: তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
৪. নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা: নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা।
৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন: দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখা।
৬. দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র: প্রশাসনের সকল স্তরে দুর্নীতি নির্মূল করা।
৭. প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ: আধুনিক ও ডিজিটাল সমাজ বিনির্মাণ।
৮. মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও কর্মসংস্থান: ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা।
৯. ব্যবসাবান্ধব টেকসই অর্থনীতি: স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি।
১০. কার্যকর গণতন্ত্র: একটি সুসংহত ও অর্থবহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
১১. মৌলিক মানবাধিকার ও বিচার: বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা।
১২. জুলাইয়ের স্বপ্ন ধারণ: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত করা।
১৩. কৃষি বিপ্লব: কৃষিখাতের আধুনিকায়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধি।
১৪. খাদ্য নিরাপত্তা: ভেজালমুক্ত খাবারের নিশ্চয়তা এবং ‘তিন শূন্য ভিশন’ বাস্তবায়ন।
১৫. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পায়ন: এসএসই (SME) খাতের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো।
১৬. শ্রমিক অধিকার: শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।
১৭. প্রবাসীদের অধিকার: প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং দেশ গঠনে তাদের সম্পৃক্ত করা।
১৮. নাগরিক সমঅধিকার: সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘুর ভেদাভেদ ভুলে সবার জন্য সমান নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।
১৯. সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা: আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা সবার জন্য উন্মুক্ত করা।
২০. শিক্ষা সংস্কার: শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা।
২১. দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীলতা: বাজার নিয়ন্ত্রণ করে পণ্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা।
২২. যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: বিভাগীয় শহরগুলোর দূরত্ব পর্যায়ক্রমে ২-৩ ঘণ্টার যাতায়াত সময়ে নামিয়ে আনা।
২৩. সাশ্রয়ী আবাসন: নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা।
২৪. ফ্যাসিবাদ বিলোপ: ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটানো এবং এর পুনর্জন্ম রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
২৫. সামাজিক নিরাপত্তা: সবার জন্য সার্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা।
২৬. কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও ইনসাফভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলা।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা জানান, এই ২৬টি বিষয় কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং তারা একটি আধুনিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার রোডম্যাপ হিসেবে একে দেখছেন।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইজেনারেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে গোল্ডেন সন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে জেনেক্স ইনফোসিস