ঢাকা, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

এইচআরএসএস-এর প্রতিবেদন

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাস: রাজনৈতিক সহিংসতায় নি'হত ১৯৫

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৮:২৮:১৫

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাস: রাজনৈতিক সহিংসতায় নি'হত ১৯৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ছিল বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সহায়তা সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, সাংবাদিক নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের মতো ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী মানবাধিকার পরিস্থিতি ও প্রাক-নির্বাচনী সহিংসতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন এইচআরএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।

রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা

প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ১৭ মাসে ১ হাজার ৪১১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১৯৫ জন নিহত এবং ১১ হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির ১২১ জন এবং আওয়ামী লীগের ১৭ শতাংশ কর্মী নিহত হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক প্রতিশোধ ছিল এসবের মূল কারণ। এদিকে, আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫৫টি সহিংসতায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি, চট্টগ্রামে সরোয়ার হোসেন বাবলা এবং ময়মনসিংহে ছাত্রদল কর্মী তানজিন আহমেদের প্রাণহানি উল্লেখযোগ্য।

মব ভায়োলেন্স ও গণপিটুনি

মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনির ৪১৩টি ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত এবং ৩১৩ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে সাবেক ইসি কে এম নুরুল হুদাকে হেনস্তা, ময়মনসিংহে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা ও পুড়িয়ে দেওয়া এবং চট্টগ্রামে দুই জামায়াত কর্মীর মৃত্যু।

সাংবাদিক নির্যাতন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

বিগত ১৭ মাসে ৪২৭টি হামলায় ৮৩৪ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৬ জন নিহত ও ৩৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল কবীর, শওকত মাহমুদ ও আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তারের ঘটনা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৪১টি মামলায় ৬৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

হেফাজতে মৃত্যু ও বিচারবহির্ভূত হত্যা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও হেফাজতে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে ১২৭ জন আসামির মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৮ জন আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাবেক মন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন ও হলমার্কের তানভীর মাহমুদ রয়েছেন।

সংখ্যালঘু ও মাজারে হামলা

সংখ্যালঘুদের ওপর অন্তত ৫৬টি হামলায় ১ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। ১৭টি মন্দির ও ৬৩টি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। পাশাপাশি সারাদেশে ১০০টির বেশি মাজারে হামলা হয়েছে। রাজবাড়ীতে ‘নুরাল পাগলা’র মরদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার বীভৎস ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সীমান্ত হত্যা ও নারী-শিশু নির্যাতন

ভারত সীমান্তে বিএসএফ-এর হাতে ৪৩ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ৩ হাজার ৫০৯ জনকে পুশইন করা হয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তে নিহত হয়েছেন ৩ জন। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র ছিল ভয়াবহ; ২ হাজার ৬১৭ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ১৬ জন ধর্ষণের শিকার (৫৫০ জনই শিশু)। শিশুদের ওপর নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭৮ জন।

সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটনসহ এইচআরএসএস-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষায় সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন