ঢাকা, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২
সিআরএফ জরিপ: আওয়ামী ভোটারদের ৪৮ শতাংশ বিএনপিমুখী
নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তনের মধ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ অংশ না নিলেও দলটির সাবেক সমর্থকদের বড় একটি অংশ বিএনপির প্রতি ঝুঁকছেন বলে এক সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে।
কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন করতে পারেন। অপরদিকে, বাকি ৫২ শতাংশ ভোটার অন্য প্রার্থী বা দল বেছে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস)-এর সঙ্গে যৌথভাবে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিআরএফ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাবুল হক। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। গবেষণার মূল ফলাফল উপস্থাপন করেন সিআরএফ-এর স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের অংশগ্রহণের আগ্রহ, অগ্রাধিকার ইস্যু, নেতৃত্ব সম্পর্কে ধারণা এবং সামগ্রিক নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। স্ট্রাটিফাইড র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার অংশ নেন।
জরিপে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো অনিশ্চিত বা ভোটে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তহীন রয়েছেন। লিঙ্গ, বয়স, শিক্ষা ও বসবাসের স্থানভেদে ভোটদানের আগ্রহে বড় কোনো পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়নি।
ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে দুর্নীতি ও সুশাসন। প্রায় ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার দুর্নীতিকে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তুলনামূলকভাবে ধর্মীয় বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন মাত্র ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটাররা এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন, যারা জনগণের কথা ভাবেন এবং বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে জনদরদি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সবচেয়ে প্রভাবশালী উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভোটাররা। অধিকাংশ ভোটার একাধিক মাধ্যম থেকে রাজনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করেন।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়েও জরিপে উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটাররা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার চেয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত। ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি ও ব্যালট দখলের আশঙ্কা সব দলের সমর্থকদের মধ্যেই রয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণ ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ ভোটার প্রার্থীকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা প্রার্থী অথবা প্রার্থী ও দল—উভয় বিষয় বিবেচনায় রেখে ভোট দেবেন। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ২ শতাংশ শুধু প্রার্থীকে এবং ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রার্থী ও দল উভয়কেই গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইজেনারেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে গোল্ডেন সন