ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২

'নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না'

২০২৬ জানুয়ারি ২৭ ১৫:৩৯:০৮

'নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না'

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সামান্য পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হলেও কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে—এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, অতীতে যেসব প্রতিষ্ঠান ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে, তার মূল কারণ ছিল নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার ঘাটতি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নির্বাচন কমিশন এবার একচুল পরিমাণ পক্ষপাতিত্বও মেনে নেবে না। নিরপেক্ষতা থেকে সামান্য বিচ্যুতিও গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে কখনোই পক্ষপাতিত্বমূলক কোনো নির্দেশনা দেওয়া হবে না। তবে কেউ যদি নিজের পছন্দ-অপছন্দের বাইরে যেতে ব্যর্থ হন এবং পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত কঠিন। এ বিষয়ে কমিশন কঠোর অবস্থানে থাকবে।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এবারের নির্বাচন কেবল একটি ভোট আয়োজন নয়; এর সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ ভাবমূর্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের মর্যাদা জড়িত। দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে তিনি খরার পর বৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করেন।

তিনি জানান, এবার কার্যকরভাবে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা। এমনকি ২০০৮ সালের সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনেও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এতটা অগ্রসর ছিল না।

নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে সবার মধ্যে ঐক্যবদ্ধ মনোভাব থাকলেই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। ফেনী জেলায় এখন পর্যন্ত সেই পরিবেশ বজায় আছে। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আচরণবিধি মানার প্রবণতাও বেড়েছে, যা কমিশনের কাজকে সহজ করেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে ইসি বলেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্ন ও নির্ভয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন—এটাই মূল লক্ষ্য। ভালো নির্বাচন আয়োজনের পূর্বশর্ত হলো শক্ত ও কার্যকর আইনশৃঙ্খলা। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।

সভায় ফেনী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, ছয় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত