ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২

মিরসরাইয়ে ভারতীয় জোনের জায়গায় হচ্ছে ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’

২০২৬ জানুয়ারি ২৭ ১০:৫২:২১

মিরসরাইয়ে ভারতীয় জোনের জায়গায় হচ্ছে ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সক্ষমতা অর্জনে বড় কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এখন থেকে প্রবাসীরা দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করলে নগদ প্রণোদনা পাবেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বাতিল হওয়া ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থানে ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ বা সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের পৃথক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

সভা শেষে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, প্রবাসীদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিনিয়োগ টানতে সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, “নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দেশে নতুন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি যদি দেশে ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে ভূমিকা রাখেন, তাহলে সেই বিনিয়োগের ওপর ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা পাবেন। এটি প্রবাসীদের জন্য একটি স্বীকৃতিস্বরূপ প্রণোদনা, যা প্রবাসী আয়ের বিদ্যমান ক্যাশ ইনসেনটিভ ব্যবস্থার মতোই কাজ করবে।”

তিনি আরও জানান, কোনো প্রবাসী যদি ১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আনেন, তবে তিনি ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার প্রণোদনা পাবেন। এ ছাড়া বিডার কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে অফিস খোলা হবে। এসব অফিসে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের কমিশন ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, সামরিক শিল্পে সক্ষমতা বাড়াতে মিরসরাইয়ে ৮৫০ একর জমির ওপর ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ করা হবে। তিনি বলেন, “সামরিক শিল্পে অস্ত্র ও অন্যান্য উপকরণ উৎপাদন নিয়ে অনেক দিন ধরে আলোচনা চলছে। এগুলোর বৈশ্বিক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের নিজেদেরও কিছু সক্ষমতা থাকা জরুরি। এ নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বেজা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় মিলে কাজ করছিল। অবশেষে এই প্রস্তাবটি বেজার গভর্নিং বোর্ডে নীতিগত অনুমোদন করা হয়।”

জায়গাটি প্রসঙ্গে তিনি জানান, “মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এনএসইজেডে) অভ্যন্তরে প্রায় ৮৫০ একর খালি জায়গাকে আমরা চিহ্নিত করেছি। জায়গাটি গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে প্রস্তাবিত ছিল, যা পরে বাতিল হয়ে গেছে। সেটিকেই এখন বেজার মাস্টারপ্ল্যানে সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।” এ ছাড়া চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ একর জমিতে দেশের প্রথম ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ বা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও অনুমোদিত হয়েছে।

প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতে বিডা, বেজা, বেপজা, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, পিপিপি কর্তৃপক্ষ এবং বিসিক—এই ছয়টি বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাকে একীভূত করে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনার রোডম্যাপ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আশিক চৌধুরী জানান, বর্তমানে প্রতিটি সংস্থার প্রধান সরকার প্রধান হওয়ায় নিয়মিত বোর্ড সভা করা কঠিন হয়ে পড়ে। একীভূত কাঠামোর মাধ্যমে প্রতি ছয় মাস অন্তর নিয়মিত সভা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। তবে এই প্রক্রিয়ার আইনগত ও কাঠামোগত বাস্তবায়ন পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সময়ে সম্পন্ন হবে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত