ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ সীমিত, এখনই হচ্ছে না নতুন পে স্কেল

২০২৬ জানুয়ারি ২৭ ১৪:৪৭:৩৩

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ সীমিত, এখনই হচ্ছে না নতুন পে স্কেল

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ সীমিত হওয়ায় নতুন পে স্কেল কার্যকরের পথে যাচ্ছে না সরকার এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পে কমিশনের প্রতিবেদন কেবল গ্রহণ করা হয়েছে, এর সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার চাইলে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

জ্বালানি উপদেষ্টা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে পে কমিশন গঠনের দাবি উঠে আসছিল। সেই দাবির ধারাবাহিকতায় একটি স্বাধীন পে কমিশন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়সীমা সীমিত হওয়ায় এই সরকার নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে না। পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা যাচাই করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই কমিটি আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করে মতামত দেবে বলে জানান তিনি।

পরবর্তী সরকার চাইলে কি এই সুপারিশ বাতিল করতে পারবে এমন প্রশ্নে ফাওজুল কবির খান বলেন, পরবর্তী সরকার সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন। যেমন এই সরকার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তেমনি ভবিষ্যৎ সরকারও তার ক্ষমতার আওতায় যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।

পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী একসঙ্গে সব বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ব্যয়ের হিসাব এসেছে ধরে নেওয়া হলে যে সব সুপারিশ একসঙ্গে ও হুবহু বাস্তবায়ন করা হবে। বাস্তবে পে কমিশনের সুপারিশ কখনোই এক ধাপে কার্যকর হয় না।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি নিজেও সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন এবং বাস্তবতা হলো এ ধরনের পে স্কেল সাধারণত পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হয়। অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট কমিটি খতিয়ে দেখবে।

পরবর্তী সরকারের ওপর চাপ তৈরি হবে কি না এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার হলেও তারা এমন উদ্যোগ নিতে চায় যাতে ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য পথ সুগম হয়। পে কমিশন ইস্যুতে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা যাতে নতুন সরকার এসে মোকাবিলা করতে না হয়, সে লক্ষ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

সর্বশেষ তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার পে কমিশনের কোনো সুপারিশ অনুমোদন করেনি। কেবল প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এর বেশি কিছু নয়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত