ঢাকা, শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২

এআই ঢেউয়ে ৬০ শতাংশ চাকরি বদলে যাওয়ার শঙ্কা

২০২৬ জানুয়ারি ২৪ ২০:৩৯:৪৮

এআই ঢেউয়ে ৬০ শতাংশ চাকরি বদলে যাওয়ার শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যে প্রযুক্তিকে একসময় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেই এআই-ই এখন শ্রমবাজারে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিতে যাচ্ছে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, এআই শ্রমবাজারে ‘সুনামির মতো’ আছড়ে পড়বে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় চাপ সামলাতে হবে তরুণ প্রজন্মকে।

আইএমএফের বিভিন্ন গবেষণার তথ্য তুলে ধরে জর্জিয়েভা জানান, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ চাকরি কোনো না কোনোভাবে এআইয়ের প্রভাবে পড়বে। প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার ধরনেও বড় পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, “উন্নত দেশগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ চাকরিতে এআইয়ের প্রভাব পড়বে। এর মধ্যে কিছু কাজ আরও উন্নত হবে, আবার কিছু চাকরি পুরোপুরি বিলুপ্ত বা রূপান্তরিত হতে পারে। বৈশ্বিকভাবে এই প্রভাব পড়বে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরিতে।”

তবে সব দিক যে নেতিবাচক, তা নয়—এ কথাও উল্লেখ করেন আইএমএফ প্রধান। তার ভাষায়, উন্নত অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে প্রতি ১০টি চাকরির মধ্যে একটি এআই ব্যবহারের ফলে আরও কার্যকর হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আয় বেড়েছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

তবুও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। অনেক চাকরি সরাসরি এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত না হলেও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে না পারলে এসব পেশার কর্মীদের মজুরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপরও।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হিসেবে জর্জিয়েভা বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির তুলনায় নীতিনির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। “আমরা এখনও নিশ্চিত নই, কীভাবে এআইকে নিরাপদ, ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে ব্যবহার করা যাবে,”—বলেন তিনি।

দাভোস সম্মেলনে এআই নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতি ও বাণিজ্য নিয়েও বিতর্ক উঠে আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রসঙ্গের মধ্যেই এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়।

ইউএনআই গ্লোবাল ইউনিয়নের মহাসচিব ক্রিস্টি হফম্যান বলেন, এআই মূলত খরচ কমানো ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ব্যবহৃত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে চাকরির সংখ্যার ওপর। তবে এই প্রযুক্তির সুফল যেন পুরো অর্থনীতিতে ন্যায্যভাবে বণ্টিত হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।

মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা সতর্ক করে বলেন, যদি এআইয়ের সুবিধা কেবল কয়েকটি বড় ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।

একই প্যানেল আলোচনায় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন ল্যাগার্ড বলেন, দেশগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা অবিশ্বাস ও প্রতিযোগিতা এআইয়ের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সহযোগিতা ও যৌথ নীতিমালা না থাকলে বিনিয়োগ ও তথ্যপ্রবাহ কমে যাবে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

ল্যাগার্ড বৈশ্বিক বৈষম্য বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধান ক্রমেই গভীর হচ্ছে—এআইয়ের বিস্তার এই ব্যবধান আরও বাড়াতে পারে।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এবারের দাভোস সম্মেলনে এআইকে ঘিরে বৈশ্বিক অর্থনীতি, সামাজিক ন্যায্যতা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিস্তৃত আলোচনা শুরু হয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

১২ ঘণ্টার ব্যবধানেই সোনার দামে বড় লাফ

১২ ঘণ্টার ব্যবধানেই সোনার দামে বড় লাফ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের অস্বাভাবিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের বাজারে আবারও বড় ধরনের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স... বিস্তারিত