ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ধীরগতির ওয়াই-ফাই? এই একটি সেটিং বদলালেই মিলতে পারে সমাধান

২০২৬ জুলাই ২৭ ১৯:১০:১৪

ধীরগতির ওয়াই-ফাই? এই একটি সেটিং বদলালেই মিলতে পারে সমাধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ধীরগতির ওয়াই-ফাই সংযোগের সমস্যায় অনেকেই রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন বা অ্যান্টেনা ঠিক করার চেষ্টা করেন। তবে নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাউটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু প্রায় উপেক্ষিত সেটিং পরিবর্তন করলেও সংযোগের গতি ও স্থায়িত্বে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, চ্যানেল উইডথ (Channel Width বা Channel Bandwidth) নির্ধারণ করে একটি রাউটার ডেটা আদান-প্রদানের জন্য কতটুকু ওয়্যারলেস স্পেকট্রাম ব্যবহার করবে।

অধিকাংশ আধুনিক রাউটারে ডিফল্টভাবে ২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ডের জন্য ৪০ মেগাহার্জ এবং ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের জন্য ৮০ মেগাহার্জ চ্যানেল উইডথ নির্ধারিত থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এটি অটো মোডেও সেট করা থাকে।

তাত্ত্বিকভাবে বড় চ্যানেল উইডথ বেশি গতি দিতে সক্ষম হলেও, সেগুলো আশপাশের ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কের ইন্টারফেয়ারেন্স বা সংকেতের বাধায় বেশি আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে অ্যাপার্টমেন্ট ভবন বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, যেখানে একই ফ্রিকোয়েন্সিতে একাধিক রাউটার একসঙ্গে কাজ করে, সেখানে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।

এ কারণে বিশেষজ্ঞরা ২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ডে চ্যানেল উইডথ ২০ মেগাহার্জে নামিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে আশপাশের নেটওয়ার্কের সংকেতজনিত বাধা কমে এবং সংযোগের স্থায়িত্ব বাড়তে পারে।

তাঁরা জানান, ২.৪ গিগাহার্জ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে ওভারল্যাপহীন চ্যানেলের সংখ্যা সীমিত। ফলে বেশি চ্যানেল উইডথ ব্যবহার করলে অতিরিক্ত স্পেকট্রাম দখল হয় এবং সংকেতের জট বা কনজেশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অন্যদিকে ৫ গিগাহার্জ ও ৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডে বেশি সংখ্যক চ্যানেল থাকায় সাধারণত ইন্টারফেয়ারেন্স কম হয়। তবে প্রয়োজন হলে এসব ব্যান্ডেও চ্যানেল উইডথ কমিয়ে সংযোগের স্থায়িত্ব পরীক্ষা করা যেতে পারে।

এই পরিবর্তন আনতে ব্যবহারকারীদের রাউটারের অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পেজে লগইন করে ওয়্যারলেস সেটিংস থেকে চ্যানেল উইডথ পরিবর্তন করতে হবে এবং সেটিং সংরক্ষণ করতে হবে। নতুন কনফিগারেশন কয়েক দিন ব্যবহার করে এর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণেরও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সংযোগে সমস্যা দেখা দিলে সহজেই আগের ডিফল্ট সেটিংয়ে ফিরে যাওয়া সম্ভব।

এ ছাড়া, কম ব্যস্ত বা পরিষ্কার চ্যানেল শনাক্ত করতে ওয়াই-ফাই অ্যানালাইজার অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপযুক্ত চ্যানেল উইডথের পাশাপাশি কম ইন্টারফেয়ারেন্সযুক্ত চ্যানেল নির্বাচন করলে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কের কর্মক্ষমতা আরও উন্নত হতে পারে। তবে তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, সবার জন্য একই সমাধান কার্যকর নয়; আদর্শ কনফিগারেশন নির্ভর করে আশপাশের নেটওয়ার্ক পরিবেশ, বাড়ির নকশা এবং ব্যবহৃত রাউটারের মডেলের ওপর।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আবারও বেড়েছে সোনার দাম

আবারও বেড়েছে সোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি... বিস্তারিত