×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধে ২২ জনের মৃ/ত্যুদণ্ড

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৯:৪৫:০৮

জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধে ২২ জনের মৃ/ত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) এখন পর্যন্ত সাতটি মামলার রায় হয়েছে। এসব রায়ে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত হয়েছেন মোট ৬৮ জন। তাঁদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন ২২ জন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ২২ জনের মধ্যে চারজন বর্তমানে কারাগারে এবং ১৮ জন পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর সর্বশেষ রায়ে ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাত নেতার মৃত্যুদণ্ড হয়। এই সাতজনের দণ্ডের মধ্য দিয়ে জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ২২ জনে পৌঁছেছে।

সর্বশেষ মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর ছয়জন হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তাঁদের অনুপস্থিতিতেই এ মামলার বিচারকাজ শেষ হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায়।

সাত মামলায় ৬৮ জন দণ্ডিত

ট্রাইব্যুনালের প্রথম ছয়টি মামলার রায়ে ৬১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে পৃথক ব্যক্তি হিসেবে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। তবে মৃত্যুদণ্ডের মোট সংখ্যা ছিল ১৬টি। কারণ, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান চানঁখারপুল ও রামপুরা-বনশ্রী হত্যাকাণ্ড-দুটি মামলাতেই মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন।

সপ্তম মামলার রায়ে আরও সাতজনের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় সব মিলিয়ে দণ্ডপ্রাপ্তের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জন হয়েছে। পৃথক ব্যক্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ জনে।

যে সাত মামলায় রায়

শেখ হাসিনা মামলা: ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিচার তাঁদের অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়।

চানঁখারপুল হত্যাকাণ্ড: ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং সাবেক এডিসি শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ মামলায় আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে তিন থেকে ছয় বছরের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আশুলিয়া হত্যাকাণ্ড ও লাশ পোড়ানো: ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম ও যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়াসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য চার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হলেন এএফএম সায়েদ, আব্দুল মালেক, বিশ্বজিৎ সাহা ও মুকুল চোখদার। এ ছাড়া নয়জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে সাতজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড: ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ মামলায় আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রামপুরা-বনশ্রী হত্যাকাণ্ড: ২০২৬ সালের ২৮ জুন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

হাসানুল হক ইনু মামলা: ২০২৬ সালের ৩০ জুন জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে দোষী সাব্যস্ত করে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়।

ওবায়দুল কাদের মামলা: ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ জন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ জন হলেন-শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন, শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, মো. সাইফুল ইসলাম, রনি ভূঁইয়া, হাবিবুর রহমান, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলাম, এএফএম সায়েদ, আব্দুল মালেক, বিশ্বজিৎ সাহা, মুকুল চোখদার, আমির হোসেন, সুজন চন্দ্র রায়, মো. রাশেদুল ইসলাম ও মো. মশিউর রহমান।

হাবিবুর রহমান চানঁখারপুল ও রামপুরা-বনশ্রী হত্যাকাণ্ড-দুই মামলাতেই মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। ফলে তাঁর ক্ষেত্রে দুটি পৃথক মৃত্যুদণ্ড থাকলেও পৃথক ব্যক্তি হিসেবে ২২ জনের হিসাবের মধ্যে তাঁকে একবারই গণনা করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১১ জন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী রয়েছেন ১১ জন। তাঁরা হলেন শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন, শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, সাইফুল ইসলাম ও রনি ভূঁইয়া।

বাকি ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তা।

কারাগারে চারজন, পলাতক ১৮

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ আসামির মধ্যে বর্তমানে চারজন কারাগারে রয়েছেন। তাঁরা হলেন আশুলিয়া মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মালেক ও মুকুল চোখদার এবং আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আমির হোসেন ও সুজন চন্দ্র রায়।

অন্য ১৮ জন এখনো পলাতক রয়েছেন।

ইমামুল

ট্যাগ: আইসিটি শেখ হাসিনা ওবায়দুল কাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাইফুল ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থান মানবতাবিরোধী অপরাধ আসাদুজ্জামান খান কামাল আমির হোসেন হাসানুল হক ইনু মৃত্যুদণ্ড হাবিবুর রহমান সাদ্দাম হোসেন সুদীপ কুমার চক্রবর্তী আশুলিয়া হত্যাকাণ্ড মো. মশিউর রহমান আব্দুল মালেক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শেখ ফজলে শামস পরশ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মোহাম্মদ আলী আরাফাত মাইনুল হোসেন খান নিখিল শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড ৬৮ জন দণ্ডিত রনি ভূঁইয়া শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলাম এএফএম সায়েদ বিশ্বজিৎ সাহা মুকুল চোখদার সুজন চন্দ্র রায় মো. রাশেদুল ইসলাম চানঁখারপুল হত্যাকাণ্ড লাশ পোড়ানো আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড রামপুরা-বনশ্রী হত্যাকাণ্ড ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত