×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৮:০২:৫৪

অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়াতে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ইউনিটে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্সে দক্ষ পুলিশ সদস্যদের কাজে লাগানো হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) বোর্ডরুমে কলেজটির পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ পরিকল্পনার কথা জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, আইটি ও কম্পিউটার সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের অনেক সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অ্যাডহক ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর, ডিএমপির সাইবার ইউনিট এবং সিআইডির মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক অ্যানালাইসিস পরিচালিত হচ্ছে। তবে সাইবার অপরাধের ধরন ও পরিধি বাড়তে থাকায় একটি স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।’

পুলিশ সদস্যদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশের সক্ষমতা ও মনোবল বাড়াতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরো দক্ষ করে তুলতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।’

পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক আনা হবে অথবা দেশে আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘লক্ষ্য হচ্ছে— সাইবার স্পেসসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ মোকাবেলায় পুলিশ বাহিনীকে সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত রাখা।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের সভায় কলেজের অধীনে পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সভায় বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সের বৈদেশিক অংশের জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণকে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

পুলিশ একাডেমিগুলোর আন্তর্জাতিক সংগঠন INTERPA-এর সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং বিদেশে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েও সভায় আলোচনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া পুলিশ স্টাফ কলেজে ‘মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স’ এবং ‘মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স’ কোর্স চালুর বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত