ঢাকা, বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

প্রমোশন বাণিজ্য বন্ধে গণভোটে হ্যাঁ বলুন: পরিবেশ উপদেষ্টা

২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৬:৪৬:০৫

প্রমোশন বাণিজ্য বন্ধে গণভোটে হ্যাঁ বলুন: পরিবেশ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যক্তি ও দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে একমাত্র পথ হিসেবে দেখছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু, পানিসম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা সিদ্দিকী। তার ভাষায়, ক্ষমতাসীন নেতাকে খুশি করেই পদোন্নতি পাওয়ার যে আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা ভাঙতে হলে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল ময়দানে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা সিদ্দিকী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি শুনে আসছেন—এই কর্মকর্তা অমুক দলের, ওই কর্মকর্তা তমুক দলের। এ ধরনের পরিচয় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। একজন কর্মকর্তা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, তার কাজ জনগণের সেবা করা। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মত থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে তার কোনো প্রতিফলন থাকা উচিত নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান আমলাতন্ত্র জনসেবায় নয়, বরং নেতা তুষ্টিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। কারণ তারা জানে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সন্তুষ্ট করতে পারলেই পদোন্নতি নিশ্চিত। এই বিকৃত ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, মেধাবীরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কর্মকর্তা হওয়ার পরও দলীয় পরিচয়ে আবদ্ধ হয়ে পড়েন। যাতে সরকারি কর্মকর্তাদের দলীয়করণ সম্ভব না হয়, সে জন্য সরকারি কর্ম কমিশনে এককভাবে ক্ষমতাসীন দল নিয়োগ দিতে পারবে না—এমন ব্যবস্থা প্রয়োজন। কমিশনের সিদ্ধান্তে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ থাকলে নেতা তুষ্টির সংস্কৃতি আর টিকবে না।

এর আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে গণভোট উপলক্ষে রিকশা প্রচার ও প্রচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। পরে সেখান থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি নিয়ে সভাস্থলে পৌঁছে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা।

সভায় তিনি দেশকে ব্যক্তি পূজার রাজনীতিতে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদ যেন জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়নের কেন্দ্র হয়, গান শোনা বা ব্যক্তি তোষণের জায়গা না হয়। জনগণ যাদের নির্বাচিত করবে, তারা যেন জাতীয় স্বার্থে জবাবদিহিমূলক আইন প্রণয়নে কাজ করেন—এটাই গণভোটের মূল লক্ষ্য।

‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই মুখ বারবার ক্ষমতায় আসার সংস্কৃতি ভাঙতে হলে প্রধানমন্ত্রী থাকার মেয়াদ সীমিত করা প্রয়োজন। ১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারলে রাজনৈতিক দলগুলোও নতুন নেতৃত্ব গড়তে বাধ্য হবে, এতে তরুণদের রাজনীতিতে আগ্রহ বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদদের কাজ অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা, বালু-পাথর কিংবা ঠিকাদারি নিয়ে ব্যস্ত থাকা নয়। ক্ষমতার লোভ কমাতে মেয়াদ সীমাবদ্ধতার মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ ছাড়া সংসদে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক দলে দুষ্টের দমন করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় অপরাধীর শাস্তি মওকুফের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মিস লামিয়া আহমেদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মিস মাহবুবা ফারজানা। সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সাধারণ ভোটাররাও এতে অংশ নেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত