ঢাকা, বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

সরকারি স্কেলে বেতন পাবেন ইমাম-মুয়াজ্জিনরা, গেজেট জারি

২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৫:৪২:৩৭

সরকারি স্কেলে বেতন পাবেন ইমাম-মুয়াজ্জিনরা, গেজেট জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের মসজিদভিত্তিক ধর্মীয় জনবলকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্যের অবসান ঘটাতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। সরকারি গেজেটে প্রকাশিত এই নীতিমালায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীক।

জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশন ও খতিব পরিষদ দীর্ঘদিন ধরেই খতিব-ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়ে আসছিল। এই প্রেক্ষাপটে সরকার নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করেছে বলে জানান জাতীয় খতিব পরিষদের সভাপতি মুফতি মাওলানা শামীম মজুমদার। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করায় আলেম সমাজ সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায় এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে সারাদেশে বৈষম্য দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

মসজিদের পদভিত্তিক গ্রেড

গেজেট অনুযায়ী, সিনিয়র পেশ ইমামকে ৫ম গ্রেড, পেশ ইমামকে ৬ষ্ঠ গ্রেড, ইমামকে ৯ম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রধান মুয়াজ্জিন ১০ম ও সাধারণ মুয়াজ্জিন ১১তম গ্রেড পাবেন। প্রধান খাদিমের জন্য ১৫তম এবং সাধারণ খাদিমের জন্য ১৬তম গ্রেড নির্ধারিত হয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের রাখা হয়েছে ২০তম গ্রেডে। তবে খতিবদের বেতন নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী।

আচরণবিধি ও দায়িত্ব

নীতিমালায় মসজিদে কর্মরতদের জন্য কঠোর আচরণবিধিও যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা, মুসল্লিদের নৈতিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন এবং অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করা।

বেতন প্রদানের পদ্ধতি

সরকারি ও মডেল মসজিদে কর্মরত ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সরাসরি সরকারি তহবিল বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বেতন পাবেন। অন্যদিকে স্থানীয় বা বেসরকারি মসজিদে এই গেজেট একটি আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে এবং বেতন প্রদানের দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির ওপর।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটির সুপারিশে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হয়। প্রণয়নের আগে আলেম-ওলামা ও ইমাম-খতিব সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এই নীতিমালায় আবাসন সুবিধা, মাসিক সঞ্চয়, চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা, নির্দিষ্ট ছুটি, নিয়োগে বাছাই কমিটি, নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি এবং নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থার নির্দেশনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ায় ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত