ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

সরকারি চাকরিতে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষায় নতুন নিয়ম

২০২৬ জানুয়ারি ২০ ২১:৪৪:১৩

সরকারি চাকরিতে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষায় নতুন নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা নীতিমালা, ২০২৩ সংশোধন করেছে সরকার। সংশোধিত নীতিমালায় ক্যাডার কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের মেয়াদ কমানোসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

গত ১৮ জানুয়ারি নীতিমালা সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ক্ষমতাবলে এর আগে ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছিল।

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, সব ক্যাডার কর্মকর্তা এবং নবনিয়োগপ্রাপ্ত নন-ক্যাডার ও অন্যান্য কর্মচারীদের চাকরিতে যোগদানের দুই বছরের মধ্যে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। ক্যাডার কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণের মেয়াদ আগের ছয় মাস থেকে কমিয়ে চার মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ক্যাডার বহির্ভূত এবং নন-ক্যাডার থেকে ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ বছর। আগে এই বয়সসীমা ছিল ৫০ বছর। একই সঙ্গে স্ব স্ব নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত পেশাসংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কোর্স চাকরিতে প্রবেশের দুই বছরের মধ্যে শেষ করতে হবে।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও নীতিমালায় পরিবর্তন এসেছে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৭ বছর, যা আগে ছিল ৪৫ বছর।

দাপ্তরিক প্রশিক্ষণের বিষয়ে সংশোধিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি দপ্তরগুলো তাদের লক্ষ্য ও কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব কর্মচারীর জন্য প্রতি অর্থবছরে ন্যূনতম ৬০ ঘণ্টার ইন-হাউজ প্রশিক্ষণের আয়োজন করবে। আগে প্রতি মাসে কমপক্ষে পাঁচ ঘণ্টা প্রশিক্ষণের বাধ্যবাধকতা ছিল।

নীতিমালায় ‘সঞ্জীবনী প্রশিক্ষণ’ শব্দটি পরিবর্তন করে নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘দক্ষতা নবায়ন প্রশিক্ষণ’। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার জন্য প্রেষণের ক্ষেত্রেও শর্ত শিথিল করা হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, পূর্ণ বৃত্তিপ্রাপ্তদের পাশাপাশি আংশিক বৃত্তিপ্রাপ্ত কর্মচারীরাও প্রেষণের সুবিধা পাবেন।

এদিকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের ক্ষেত্রে প্রেষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য নতুন একটি বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে। নীতিমালার ১৮.১ (ঝ) উপ-উপানুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রেষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রতি বছর সংশ্লিষ্ট গবেষণা তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে অগ্রগতির প্রত্যয়ন সংগ্রহ করে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।

এই প্রত্যয়ন দাখিল বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে নীতিমালায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জমা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বেতন স্থগিত করা হবে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত