ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

সুস্থ দাম্পত্য জীবন গড়ে তুলতে যা প্রয়োজন

২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৯:১৮:২৯

সুস্থ দাম্পত্য জীবন গড়ে তুলতে যা প্রয়োজন

নিউজ ডেস্ক: বিয়ে শুধু সামাজিক রীতি নয়, এটি জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা। দম্পতিরা যখন যৌথ জীবনে প্রবেশ করে, তখন তাদের সম্পর্ককে সুস্থ ও সমৃদ্ধ রাখার জন্য পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং সচেতন প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ব্যস্ত সময়সূচি ও দৈনন্দিন দায়িত্বের মধ্যে একসঙ্গে মানসম্পন্ন সময় কাটানো চ্যালেঞ্জ হলেও, কার্যকর যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে একটি দৃঢ় দাম্পত্য বন্ধন গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

অনেকে বহু বছর একসাথে থাকার পরও দাম্পত্যের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারেননি। শুধুমাত্র একই ছাদের নিচে থাকা, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া এবং শারীরিক ঘনিষ্ঠতাকেই তারা দাম্পত্যের পরিসর মনে করেন। তবে সুখী দাম্পত্যের জন্য প্রয়োজন একে অপরের মনের খোঁজ রাখা, ঘনিষ্ঠ সময় কাটানো এবং একে অপরের প্রতি মূল্যবোধ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।

ডা. সানজিদা শাহরিয়া, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সেলর বলেন, সুস্থ ও সুখী দাম্পত্য গড়তে সচেতন প্রচেষ্টা, কার্যকর যোগাযোগ, ঘনিষ্ঠতা এবং মানসিক সমর্থন অপরিহার্য।

সুস্থ দাম্পত্যের জন্য কার্যকর যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, অনুভূতি ভাগাভাগি করা এবং উদ্বেগগুলো সম্মানের সঙ্গে আলোচনা করা সম্পর্কের বোঝাপড়া ও মানসিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়।

দম্পতিরা একে অপরের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটানোকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন। সপ্তাহান্তে একসঙ্গে সময় কাটানো, ডেট নাইট আয়োজন বা ছোট ভ্রমণ সম্পর্ককে শক্তিশালী করে।

বিশ্বাস ও স্বচ্ছতা সম্পর্কের শক্ত ভিত্তি তৈরি করে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎ ও নির্ভরযোগ্য থাকা, গোপনীয়তা এড়ানো এবং খোলামেলা আচরণ সুস্থ দাম্পত্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সম্পর্কের ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি করে। সঙ্গীর ছোট ছোট প্রচেষ্টা ও গুণাবলির প্রতি ধন্যবাদ ও প্রশংসা জানানোর মাধ্যমে তার মানসিক নিরাপত্তা ও মূল্যবোধ বাড়ানো সম্ভব।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা দম্পতির মানসিক সংযোগকে আরও গভীর করে। ব্যক্তিগত ইচ্ছা, ভ্রমণ পরিকল্পনা বা ক্যারিয়ার বিষয়ক আলোচনায় অংশগ্রহণ সম্পর্ককে সমৃদ্ধ করে।

সমস্যার সমাধান শান্তভাবে ও গঠনমূলকভাবে করা প্রয়োজন। মতবিরোধ স্বাভাবিক হলেও ক্রমাগত দোষারোপ না করে সমস্যার সমাধান খুঁজুন। নিজের ভুল স্বীকার ও ক্ষমা চাওয়া সম্পর্ককে আরও মজবুত করে। প্রয়োজনে পেশাদার থেরাপির সাহায্য নিন।

মানসিক সমর্থন সম্পর্কের মেরুদণ্ড। ভালো বা খারাপ সময় একে অপরের পাশে থাকা, সহানুভূতি প্রদর্শন ও নিঃশর্ত ভালোবাসা সম্পর্ককে দৃঢ় করে।

শারীরিক ঘনিষ্ঠতা ও রোমান্স সম্পর্ককে জীবন্ত রাখে। স্নেহপূর্ণ স্পর্শ, কোয়ালিটি টাইম এবং মানসিক সংযোগ একসাথে দাম্পত্যকে গভীর করে।

শ্রদ্ধা ও সমতা বজায় রাখা অপরিহার্য। পারস্পরিক সম্মান, ব্যক্তিগত স্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সঙ্গীর অর্জন উদ্‌যাপন সম্পর্ককে সমৃদ্ধ করে।

পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে চলার মানসিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ পরিবর্তিত হয়, সম্পর্কও তাই। এই পরিবর্তনকে গ্রহণ করলে দাম্পত্যের সুখদায়ক দিক আরও দৃঢ় হয়।

একটি সুস্থ বৈবাহিক জীবন হলো বোঝাপড়া, ভালোবাসা, সচেতন প্রচেষ্টা এবং পারস্পরিক মানসিক সমর্থনের যাত্রা। কার্যকর যোগাযোগ, বিশ্বাস, ঘনিষ্ঠতা ও শ্রদ্ধার মাধ্যমে দম্পতিরা তাদের সম্পর্ককে গভীর, শক্তিশালী ও পরিপূর্ণ করতে পারেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (১৩ জানুয়ারি)

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (১৩ জানুয়ারি)

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমবর্ধমান হচ্ছে এবং এর সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার লেনদেনের চাহিদাও বেড়ে চলেছে।... বিস্তারিত