ঢাকা, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাধাদানকারী শিক্ষকের পক্ষে সাদা কাগজে স্বাক্ষর গ্রহণ সহকর্মীর!

২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৬:২২:০৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাধাদানকারী শিক্ষকের পক্ষে সাদা কাগজে স্বাক্ষর গ্রহণ সহকর্মীর!

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাধাদানকারী দণ্ডিত শিক্ষকের পক্ষে স্বাক্ষর গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের না জানিয়ে ঐ শিক্ষিকা সাদা কাগজে স্বাক্ষর আদায় করছেন বলে বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন।

জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে বাধাদান করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ মেহেদী উল্লাহকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। একই বিভাগের শিক্ষক প্রদিতি রাউত প্রমা বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের থেকে দণ্ডিত শিক্ষকের পক্ষে স্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে ক্লাস থেকে তার রুমে ডেকে নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর গ্রহণ করছেন। কেউ জিজ্ঞেস করলে বা সিগনেচার করতে অস্বীকার করলে নম্বর কমিয়ে দেওয়া সহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানান, বিভিন্ন কাজের কথা বলে রুমে ডেকে এইভাবে স্বাক্ষর নেয়াটা খুবই আপত্তিকর। নিজেদের আতঙ্কের কথা জানান তারা। একাধিক শিক্ষার্থী বিভাগীয় প্রধানকে বিষয়টি অবহিত করেন বলে জানিয়েছেন।

নাম না প্রকাশের শর্তে এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, কাজের ব্যাপারে কথা বলতে ডেকে সাইন নিয়েছেন। আমি জানি না কেন সাদা কাগজে সাইন নিলেন। আমার মতো আরো কয়েকজন থেকে আমার সামনে সাইন নিতে দেখেছি। কিসের সাইন জানতে চাইলে তিনি কিছু না জানিয়ে বলেন পরে কথা হবে।

শিক্ষক প্রদিতি রাউত প্রমাসহ আরো কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগের খাতা সাবেক উপাচার্য সৌমিত্র শেখরের বেডরুম থেকে প্রক্টরিয়াল বডি জব্দ করে। প্রদিতির ফলাফল টেম্পারিং ও শিক্ষক নিয়োগ অসদুপায় অবলম্বনের দফায় দফায় অভিযোগ করেও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা কোনো প্রতিকার পায়নি।

শিক্ষার্থীদের থেকে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি 'মিথ্যা কথা' বলে প্রদিতি রাউত প্রমা জানান, সেটা শিক্ষার্থীদের ব্যাপার, আমি কোনকিছু করতে যাই নাই। একটা শ্রেণি অপপ্রচার করছে বলে উল্টো অভিযোগ করেন তিনি।

প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণ পর ফোকলোর বিভাগের পরিচয় দেওয়া বিভিন্ন ব্যাচের অন্তত ৪জন শিক্ষার্থী ফোন করেন। এসময় তারা স্বাক্ষর গ্রহণের স্বপক্ষে কথা বলেন। এবং তারা প্রত্যেকে একি কথা বলেন যে প্রদিতি রাউত প্রমা ম্যাম এ ব্যাপারে কিছু জানেন না ,তিনি নির্দোষ। প্রতিবেদকের নম্বর কোথায় পেয়েছেন বলার পর কোন সদুত্তর তারা করতে পারেনি।

অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় প্রধান ড. আতিজা দীল আফরোজ বলেন, এটা খুবই নিন্দনীয় কাজ যদি অভিযুক্ত শিক্ষকের সম্পৃক্ততা থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের দিয়ে জোর করে স্বাক্ষর করানো স্বাধীনতা হরণ। এটা অত্যন্ত জঘন্য বলে অবিহিত করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপাচার্য ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি এই বিষয়ে জানি না। তবে যদি কোন শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে আমরা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যান্য সংবাদ