ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলাই হবে প্রথম কাজ: জামায়াত আমির
নিজস্ব প্রতিবেদক: সমাজে অসংখ্য সৎ ও ভালো মানুষ থাকা সত্ত্বেও অল্প কয়েকজন অসৎ রাজনীতিবিদের কারণে দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার মহাখালীর বিএমআরসি ভবনে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সুযোগ পেলে সরকার ব্যবস্থার ‘দুর্নীতির শিকড়’ উপড়ে ফেলাই হবে প্রথম কাজ। গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কোথাও লুটপাট না হওয়া প্রমাণ করে, এই দেশের মানুষ স্বভাবগতভাবে সৎ—সমস্যা রয়েছে রাজনীতি পরিচালনার জায়গায়।
কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডারদের কম বেতন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা যে পারিশ্রমিক পান, তা দিয়ে শহরে সাধারণ একটি বাসাও ভাড়া করা সম্ভব নয়। জনস্বার্থে কাজ করা এই কর্মীদের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পুলিশের বেতন যদি মাত্র ২৫ হাজার টাকা হয়, তাহলে তারা ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবে না। সমাজে আস্থা তৈরি হলে মানুষই দায়িত্ব নেওয়ার সাহস অর্জন করে।
শিক্ষাব্যবস্থার অপরিকল্পিত কাঠামোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে এখনও মানসম্মত শিক্ষা ও ক্যারিয়ার গাইডেন্সের ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীর সামর্থ্য ও আগ্রহ অনুযায়ী দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কোচিং-নির্ভর ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, শ্রমিকের সন্তান হোক বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীর—প্রত্যেক শিশুর সমান শিক্ষাধিকার রয়েছে। অবহেলায় বড় হতে দেওয়া হলে তারা সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে, অথচ তাদেরই জনসম্পদে পরিণত হওয়ার কথা।
তিনি জাতিগত বা পেশাভিত্তিক বিভাজন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই স্কুলে পড়া কিংবা একই ভাষায় কথা বলা সত্ত্বেও সমাজে বিভক্তি তৈরি হওয়াকে তিনি অগ্রগতির অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, বিভাজন যত বাড়ে, সংঘাত তত বাড়ে; আর ঐক্য থাকলে সহযোগিতা বাড়ে—অতএব জাতীয় অগ্রগতি ঐক্য ছাড়া সম্ভব নয়।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে আগামী এক বছরের মধ্যে ১০০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। বলেন, বেসিক লেভেল শক্তিশালী হলে ওপরের স্তরের ৯০% চাপ কমে যায়। সরকারে যাই বা না যাই, এই উদ্যোগ সামাজিক কল্যাণে আমাদের প্রতীকী অবদান হিসেবে থাকবে।
রাজনীতিকে জনগণের সেবার ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি শুধু পথে চলা নৌকার মাঝি হতে চাই না; বরং গন্তব্যে পৌঁছে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।”
শেষে তিনি বলেন, নেতৃত্বের সুযোগ মিললে জনগণের অধিকার আদায়ে আর কাউকে অপেক্ষা করতে হবে না—সরকারের দায়িত্বই হলো মানুষের অধিকার তাদের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া।
কেএমএ
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত
- পর্নোগ্রাফি মামলায় ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেফতার
- শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক দেবে এসএসসি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, আবেদন করবেন যেভাবে
- বিমান বাহিনীতে ৪৫ ক্যাটাগরিতে ৩৪২ শূন্যপদে চাকরির সুযোগ
- লন্ডনে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকের কোচ ট্রিপ অনুষ্ঠিত
- বসুন্ধরায় অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার
- ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোপন তৎপরতার অভিযোগ, ৫৮ জন শনাক্ত
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
- প্রথম দিনেই বাজিমাত জিতের নতুন সিনেমার
- দেশের বাজারে কমেছে সোনার দাম
- যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফেরেননি, ঢাবি অধ্যাপককে অব্যাহতি
- আপনার মোবাইল থেকে ছবিসহ তথ্য চুরি করছে যেসব অ্যাপ
- স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১৮ আগস্ট পর্যন্ত
- এসএসসি পাস শিক্ষার্থীদের ২ বছরের বৃত্তি দেবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক
- ঢাকার ১১০ কিলোমিটার নৌপথে চলবে বৈদ্যুতিক ওয়াটার বাস