ঢাকা, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় আফগানিস্তানকে দায়ী করছে পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আফগানিস্তানকে দায়ী করেছেন চলতি সপ্তাহে ঘটানো দুটি ‘আত্মঘাতী হামলার’ জন্য। ইসলামাবাদে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আসে এমন সময়ে যখন দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।
পার্লামেন্টে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি বলেন, মঙ্গলবার রাজধানীতে আদালতের সামনে এবং তার আগের দিন একটি সামরিক স্কুলে হওয়া হামলায় আফগানরা জড়িত। তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন পাকিস্তানে হামলা চালানো ইসলামপন্থি সন্ত্রাসীদের সহায়তা করছে। তবে ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসা তালেবান এসব অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছে এবং পাল্টা অভিযোগ করেছে যে ইসলামাবাদ আইএসআইএস-খোরাসান জঙ্গিদের সমর্থন দিচ্ছে।
তালেবানের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, “আইএসআইএস-কে-এর বিরুদ্ধে অভিযানে আমরা বহু পাকিস্তানি নাগরিককে হত্যা, আটক বা গ্রেফতার করেছি। তবে তা পুরো পাকিস্তানি জাতি ও সরকারের জন্য দায়ী করা যাবে না।”
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার ইসলামাবাদের একটি নিম্ন আদালতের বাইরে পুলিশ টহল দলের কাছে এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ১২ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়। এর আগে সোমবার আফগান সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে একটি সামরিক স্কুলের প্রধান ফটকে সন্ত্রাসীরা বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি ধাক্কা দেয়। এতে তিন জন নিহত হয়। হামলাকারীরা স্কুলে প্রবেশ করলে সেখানে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকিতে পড়ে। পাকিস্তান সেনাদের সঙ্গে জঙ্গিদের গোলাগুলি ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এবং সব হামলাকারী নিহত হয়।
সম্প্রতি পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক ক্রমেই তীব্র হয়েছে। গত মাসে দুই দেশের সীমান্তে সংঘর্ষে বহু সৈন্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তান ও ভারতের সম্পর্কও উত্তেজনাপূর্ণ। মে মাসে দুই দেশের মধ্যে চার দিনের যুদ্ধ হয়েছে। ইসলামাবাদ দাবি করে, আফগানিস্তানে থাকা পাকিস্তানি তালেবান ও অন্যান্য জঙ্গি ভারত সমর্থন পাচ্ছে, যা নয়াদিল্লি অস্বীকার করেছে।
দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীল থাকলেও, ভূরাজনৈতিক কারণে আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় উভয়ই জড়িত। পাকিস্তান ও ভারত উভয়ই আফগানিস্তানকে নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।
২০০৭ সাল থেকে পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে। তাদের লক্ষ্য সরকার উৎখাত করে নিজেদের ব্যাখ্যানুযায়ী ইসলামি শাসন কায়েম করা।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পে স্কেল নিয়ে ৭ দাবি সরকারি কর্মচারীদের
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখুন এখানে
- প্রথমবারের মতো নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য পেলো কুবি
- শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ
- ৫৪ জেলায় টিসিবির ডিলার নিয়োগ, আবেদন শুরু ১০ মে
- পে স্কেলের প্রস্তাবিত গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- ঢাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল
- রবির মুনাফায় আকাশচুম্বী প্রবৃদ্ধি, ব্যাকফুটে শিপিং কর্পোরেশন
- বাংলাদেশিদের স্কলারশিপ দেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিমন্স ইউনিভার্সিটি, আবেদন শুরু
- আজ সন্ধ্যায় সাদিক কায়েমের বিয়ে
- ঈদকে সামনে রেখে মুনাফা তুলছেন বিনিয়োগকারীরা
- পদত্যাগ করলেন ঢাবি শিক্ষক মোনামি
- এমপিও শিক্ষকদের ঈদ বোনাস কবে, যা জানা গেল
- ঢাকাসহ ১৭ জেলায় রাতের ঝড়ের সতর্কতা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর
- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ চেয়ারম্যান ও ৭ ডিনের পদত্যাগ, নেপথ্যে কী?