ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রার্থীদের সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ দিচ্ছে ‘ভোটের সাথী’ অ্যাপ
নিজস্ব প্রতিবেদক:আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা প্রথমবারের মতো সরাসরি তাদের এলাকার প্রার্থীদের প্রশ্ন করতে পারবেন। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এই সুযোগটি নিশ্চিত করতে যাচ্ছে নতুন নির্বাচনী অ্যাপ ‘ভোটের সাথী’–এর মাধ্যমে। অ্যাপটির মাধ্যমে প্রার্থী ও ভোটারের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হবে, যা জবাবদিহিতা বাড়াবে এবং নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইসিটি বিভাগ জানিয়েছে, অ্যাপটি প্রযুক্তিনির্ভর সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ভোটাররা প্রার্থীর হলফনামা, আয়কর ও শিক্ষাগত তথ্য, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং নির্বাচনী ইশতেহার দেখতে পারবেন। এছাড়া তারা সরাসরি প্রার্থীকে প্রশ্ন করতে পারবেন এবং নিজের ভোটকেন্দ্র সম্পর্কিত তথ্য জানতে পারবেন। প্রার্থীরাও ভোটারদের প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেন। ভোট চলাকালে অনিয়মের তথ্য রিপোর্ট করার সুবিধাও থাকবে, যা নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী ও ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলো যাচাই করতে পারবে।
অ্যাপটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অ্যাপটির জন্য সরকারের কোনো অতিরিক্ত ব্যয় হবে না। কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আইসিটি বিভাগ ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রার্থীদের সম্পদ বিবরণী, হলফনামা, আসনভিত্তিক তালিকা এবং ভোটার তথ্য সংযুক্ত করার জন্য অনুরোধ করেছে।
অ্যাপটির উন্নয়ন তদারকি করছেন বিজিডি ই-গভ সার্ট প্রকল্পের পরিচালক হোসেন বিন আমিন। তিনি জানান, এটি ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে এবং প্রার্থীদের দায়বদ্ধতা বাড়াবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ উদ্যোগ ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। সরাসরি প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে প্রার্থীর মনোভাব ও নীতিগত অবস্থান বোঝা সম্ভব হবে।
অ্যাপটিতে ছয়টি মূল ফিচার থাকবে—১. প্রার্থীর বিস্তারিত তথ্য ও ইশতেহার প্রদর্শন;২. ভোটারদের সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ;৩. ভোটকেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্য;৪. প্রার্থীর জবাবদানের ব্যবস্থা;৫. অনিয়ম রিপোর্ট করার সুবিধা;৬. ফ্যাক্ট-চেকিং ও মনিটরিং সিস্টেম।
নির্বাচন কমিশনও অ্যাপটির নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে সতর্ক। সচিবালয়ের ডাটাবেজ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় বাইরের পূর্ণাঙ্গ অ্যাক্সেস ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভিপিএনের মাধ্যমে সীমিত অ্যাক্সেস দেওয়া যেতে পারে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল আলীম মনে করেন, ডিজিটাল যুগে এই অ্যাপটি প্রার্থী-ভোটার যোগাযোগে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। এতে মাঠপর্যায়ের সংঘাত কমবে এবং ভোটাররা ঘরে বসেই প্রার্থীদের সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন। নির্বাচনের পরও অ্যাপটি সচল থাকলে নাগরিক সেবায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
ডুয়া/নয়ন
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বাংলাদেশকে ৩০৫ রানের লক্ষ্য দিল আফগানিস্তান, জবাবে ১৬৯ রান
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- শনিবার ঢাকায় বন্ধ যেসব মার্কেট ও দোকানপাট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন
- সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃ/ত্যুতে রাজনীতিতে শূন্যতা তৈরি হয়েছে: রিজভী