ঢাকা, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২
শেয়ারবাজারের পাঁচ ব্যাংকে প্রশাসক বসছে বুধবার
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে একটি বৃহৎ ইসলামী ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে আগামীকাল বুধবার এসব ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রশাসক নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করা হবে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) চুক্তি বাতিল করা হবে। সরকার ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণের প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
একীভূত হতে যাওয়া ব্যাংক পাঁচটি হলো—এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। এদের মধ্যে এক্সিম ব্যাংকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শওকাতুল আলম, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে সালাহ উদ্দিন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে মো. মোকসুদুজ্জামান এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে মোহাম্মদ আবুল হাসেম।
প্রশাসকদের প্রথম কাজ হবে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণে সব ধরনের তথ্য সরবরাহ করা। সেনা কল্যাণ ভবনে এই ব্যাংক একীভূতকরণের জন্য স্থাপিত কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সব তথ্য সমন্বয় করবেন। নতুন ব্যাংকের নাম চূড়ান্ত হয়েছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’।
বাংলাদেশ ব্যাংক এক বছর ধরে এই পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করতে কাজ করছে। এ সময় আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন, সংকটের ব্যাংকগুলোর সম্পদ ও দায় পর্যালোচনা, কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান এবং অন্যান্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার প্রস্তাব অনুমোদন করে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি। পরিশোধিত মূলধনের ২০ হাজার কোটি টাকা সরকার দেবে, যার ১০ হাজার কোটি নগদ এবং বাকি ১০ হাজার কোটি সুকুক বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে। ফলে শুরুতে এটি হবে সরকারি খাতের একটি ব্যাংক।
শেয়ার রূপান্তরের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ১৫ হাজার কোটি টাকা মূলধনে রূপান্তর করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের গ্রাহক ও অন্যান্য পাওনাদারের ঋণের একাংশ শেয়ারে রূপান্তরিত হবে। পরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এই শেয়ারের অর্থ নগদায়ন করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকে ৭৫ লাখ আমানতকারীর জমা আছে এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা, এবং এর বিপরীতে ঋণ রয়েছে এক লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এক লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা ৭৬ শতাংশ এখন খেলাপি। সারা দেশে এসব ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে।
ঋণখেলাপির সর্বোচ্চ হার রয়েছে ইউনিয়ন ব্যাংকে ৯৮ শতাংশ, এরপর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ৯৭ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ৯৫ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ৬২.৩০ শতাংশ এবং এক্সিম ব্যাংক ৪৮.২০ শতাংশ।
সংরক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো আমানতকারীর সুরক্ষা। প্রথম ধাপে প্রত্যেক আমানতকারীকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। কারো দুই লাখ টাকা জমা থাকলে তিনি পুরো অর্থ তুলতে পারবেন। এর বেশি থাকলেও প্রথম ধাপে দুই লাখ টাকা দেওয়া হবে, বাকি টাকা ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করা হবে।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৩ ফেব্রুয়ারি)
- ঢাবির ১৯ শিক্ষার্থী পেলেন ‘টিএফপি ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’
- দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিম চালু
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: জেনে নিন সরাসরি দেখার উপায়
- টানা ৫ দিনের ছুটি পাচ্ছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- কে এই কু'খ্যাত জেফ্রি এপস্টেইন?
- ডিইউপিএস-এর ২৩তম কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা: সভাপতি আবীর, সম্পাদক হাসিব
- গ্রামীণফোনের ২১৫ শতাংশ ফাইনাল ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- এক নজরে দেখে নিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিবর্তিত সময়সূচি
- ঢাবির 'বি' ইউনিটের পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, পরিবর্তন ৮ জনের
- সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনাল: ভারত বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল জানুন
- উপবৃত্তিতে বড় পরিবর্তন, খুলল নতুন সুযোগ