ঢাকা, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করলেন পৃথিবীর দ্বিতীয় চাঁদ
ডুয়া ডেস্ক: ৪৫০ কোটি বছর ধরে চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ হলেও, অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, পৃথিবীর এখন একটি নয়, দুটি চাঁদ। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই দ্বিতীয় চাঁদ, যা একটি 'কোয়াজি মুন', অন্তত ২০৮৩ সাল পর্যন্ত থাকবে।
হাওয়াইয়ের প্যান স্টারস মানমন্দিরের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গত সেপ্টেম্বর মাসে নতুন এই 'কোয়াজি মুন' এর সন্ধান পান। 'কোয়াজি মুন' হলো একটি মহাজাগতিক বস্তু বা গ্রহাণু, যা পৃথিবীর মতো একই কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, কিন্তু পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণে বাঁধা থাকে না। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘২০২৫ পিএন৭’। বর্তমানে এটি পৃথিবী থেকে ৫৯ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।
গবেষকরা ব্যাখ্যা করে জানান, এটি আসলে একটি গ্রহাণু বা অ্যাস্টারয়েড, যা ১৯৬০-এর দশক থেকে সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর মতোই একটি কক্ষপথে ঘুরপাক খাচ্ছে। ৬২ ফুট বা ছয়তলা অট্টালিকার সমান এই 'কোয়াজি মুন' পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা বাকি ছয়টি কোয়াজি মুনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। তবে এর অবস্থান স্থির নয়, এটি পরিবর্তনশীল।
আমাদের চাঁদের মতো এটিকে খালি চোখে দেখা যাবে না; এর জন্য ভালো মানের টেলিস্কোপ প্রয়োজন। টেলিস্কোপে দেখলে এটিকে প্রাথমিকভাবে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে দেখা গেলেও, এটি মূলত পৃথিবীর মতো একই কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
১৯৯১ সালে প্রথম 'কোয়াজি স্যাটেলাইট' আবিষ্কার করা হয়। সে সময় বিজ্ঞানীরা এটিকে ভিনগ্রহী প্রোব হিসেবে ধারণা করেছিলেন। তিন দশক পর গবেষকরা জানিয়েছেন, এই বস্তুগুলো প্রাকৃতিক এবং সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ও চাঁদ যেমন ঘুরছে, সেই একই পথে বা কাছাকাছি এই ছোট ছোট পাথুরে বস্তু বা গ্রহাণুগুলো ঘুরছে এবং পৃথিবী-চাঁদের কক্ষপথের আশেপাশে বলয় তৈরি করে থাকছে।
তবে এই নতুন প্রতিবেশী বেশি দিনের অতিথি নয় এবং খুব শীঘ্রই মহাবিশ্বের কোথাও হারিয়ে যাবে। এর আগে আবিষ্কৃত আরেক বিখ্যাত কোয়াজি মুন 'কামোওয়ালেওয়া' পৃথিবী সম্পর্কিত কক্ষপথে প্রায় ৩৮১ বছর ধরে ছিল বলে জানা যায়। কোয়াজি মুনগুলো 'আর্জুনা' বিশেষ শ্রেণির মহাজাগতিক বস্তুর অন্তর্গত, যা সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর সঙ্গে প্রায় একই গতিতে চলাচল করে।
মাদ্রিদের কমপ্লুতেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-লেখক কার্লোস দে লা ফুয়েন্তে মার্কোস বলেন, "এই নতুন কোয়াজি মুনটি ছোট, ম্লান এবং পৃথিবী থেকে দেখার তেমন উপযোগী নয়। তাই এতদিন এটি নজরে আসেনি।"
তথ্যমতে, 'কোয়াজি মুন' ছাড়াও পৃথিবীকে মাঝে মাঝে সাময়িকভাবে ঘিরে রাখে 'মিনিমুন'। এই মিনিমুনগুলো সাময়িক সময়ের জন্য আসে। এখন পর্যন্ত মাত্র চারটি মিনিমুনের সন্ধান পাওয়া গেছে, তবে বর্তমানে কোনোটিই নেই। দ্য প্ল্যানেটারি সোসাইটির বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, 'কোয়াজি মুন' ও 'মিনিমুন' আমাদের মহাকাশ-প্রতিবেশের অংশ। নিয়মিত গবেষণা করলে এদের উৎপত্তি কোথায়, সেটাও জানা যেতে পারে, ধারণা করা হয়, "এগুলো হয়তো প্রধান গ্রহাণু বলয় থেকে এসেছে, কিংবা চাঁদের উপর আঘাতের ফলে বা বড় কোনো বস্তুর ভেঙে যাওয়া থেকে সৃষ্টি হয়েছে।"
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ফাইল চূড়ান্ত
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ আগস্ট)
- দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ফল দেখবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ আগস্ট)
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণ নিয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ করার পর শিক্ষার্থীদের করণীয় কী
- ১৯তম নিবন্ধন থেকে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করবে না এনটিআরসিএ
- নতুন নিয়মে এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করবেন যেভাবে
- এসএসসিতে ফেলের হার ৩৭.৭৫ শতাংশ
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার আর নেই
- বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪৮ পদে নিয়োগ, আবেদন শুরু ১১ আগস্ট
- পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৪১ পদে নিয়োগ
- জবির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ, আবেদন নভেম্বরে
- এসএসসির ফলাফল দেখবেন যেভাবে