ঢাকা, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
সিনেমা ছেড়ে যেভাবে রাজনীতির মঞ্চে থালাপতি বিজয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বরাবরই সিনেমা ও গণআন্দোলনের গভীর সংযোগ দেখা গেছে। এম.জি. রামচন্দ্রন (এমজিআর), জে. জয়ললিতা কিংবা করুণানিধি মুথুবেলের মতো কিংবদন্তি নেতারা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েই রাজনীতিতে উত্থান ঘটিয়েছিলেন। এই দীর্ঘ ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত এবং সম্ভাবনাময় নাম হলেন সুপারস্টার থালাপতি বিজয়।
অভিনয়ে বিজয়ের হাতেখড়ি হয় মাত্র দশ বছর বয়সে, ১৯৮৪ সালে 'ভেত্রি' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এরপর তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে রজনীকান্তের সঙ্গেও পর্দা ভাগ করে নেন। ১৮ বছর বয়সে 'নালাইয়া থির্পু' (১৯৯২) ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৩ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে তিনি নিজেকে তামিল চলচ্চিত্রের প্রধান নায়ক হিসেবে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে তিনি আকাশছোঁয়া তারকাখ্যাতি পান এবং ভারতের প্রথম অভিনেতা হিসেবে একটি ছবির জন্য ২০০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেন বলে জানা যায়। তার পারিশ্রমিক শাহরুখ খান, সালমান খান, প্রভাসসহ অনেক শীর্ষ অভিনেতাকে ছাড়িয়ে গেছে।
চলচ্চিত্রে অভূতপূর্ব সাফল্যের পর, বিজয় তার তিন দশকের অভিনয় জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন। তার শেষ সিনেমা হবে 'জনা নায়াগন', যা ২০২৬ সালের পোঙ্গল উৎসবে মুক্তি পাবে।
তার বিপুল জনপ্রিয়তা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে সামাজিক বার্তা বহনকারী সিনেমার কারণে তিনি কেবল একজন নায়ক নন, বরং এক রোল মডেলে পরিণত হয়েছেন। এই বিশাল ভক্তগোষ্ঠী 'বিজয় ভক্তসেনা' নামে পরিচিত এবং তারা বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকে।
২০২৪ সালের শুরুতে বিজয় পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিতে প্রবেশের ঘোষণা দেন এবং 'তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)' নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তার দলের মূল এজেন্ডা হলো দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। বিজয়ের রাজনৈতিক দর্শন প্রচলিত রাজনীতির বাইরে গিয়ে নতুন ধারা তৈরি করার দিকে ইঙ্গিত করে। তিনি শিক্ষার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন ও তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দিয়েছেন।
যদিও বিজয়ের জনপ্রিয়তা ব্যাপক, তবুও তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে গভীর শিকড়যুক্ত ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-এর মতো শক্তিশালী দলীয় কাঠামো তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি ও বেকারত্ব নিয়ে জনগণের অসন্তোষের মধ্যে বিজয়ের আগমন বিকল্প নেতৃত্বের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যদি তিনি তার ভক্তভিত্তিকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে পারেন এবং নীতিনির্ভর রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হন, তবে তিনি আগামী এক দশকে তামিলনাড়ুর রাজনীতির অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারেন।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম চীনের ফুটবল ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- বাংলাদেশ বনাম চীনের ফুটবল ম্যাচ: কবে, কখন, কোথায়-জানুন সময়সূচি
- প্রকাশিত হলো ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফলাফল, দেখুন এখানে
- পুলিশে ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ: আবেদনের যোগ্যতা ও নিয়মাবলী
- বাংলাদেশ বনাম চীন ফুটবল ম্যাচ: জেনে নিন ফলাফল
- বিক্রিতে ধস, অথচ শেয়ার দরে উল্লম্ফন: জি কিউ বলপেনের রহস্য কী?
- সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে ঢাবির যুগান্তকারী ‘লস রিকভারি প্ল্যান’
- উৎপাদন বন্ধ থাকায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামল তালিকাভুক্ত কোম্পানি
- ডুসাসের নেতৃত্বে জিসান-সাবরিন
- মারা যাওয়ার আগে কী বার্তা দিলেন জাহের আলভীর স্ত্রী?
- জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করল সরকার
- ফুটবল এশিয়ান কাপ: বাংলাদেশ দল যে গ্রুপে-দেখুন ম্যাচের সময়সূচী
- একই কক্ষপথে যাত্রা, এক বছর পর তিন মেরুতে তিন কোম্পানি
- আতঙ্ক কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই, সূচকের বড় লাফ
- আকাশপথে চরম আতঙ্ক; মধ্যপ্রাচ্যের সব রুটে ফ্লাইট স্থগিত করল ঢাকা