ঢাকা, শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২

বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পকে খুশি করতে মাঠে নেমেছে: খামেনি

২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১২:৫৯:২৪

বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পকে খুশি করতে মাঠে নেমেছে: খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনকে সরাসরি ‘দাঙ্গা’ আখ্যা দিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি দাবি করেছেন, রাজপথে নামা বিক্ষোভকারীরা মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতেই সহিংস কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, কয়েক লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলাকারীদের কাছে মাথা নত করবে না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকার কোনো দ্বিধা করবে না। বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

এরই মধ্যে টানা ১৩ দিনের বিক্ষোভে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরানের নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের ‘সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী’ ও ‘শান্তি বিনষ্টকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, সামরিক বা সরকারি স্থাপনায় যেকোনো ধরনের হামলার জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র উসকানি ও প্ররোচনার মাধ্যমে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংস রূপ দিচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এ পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। কয়েকটি সংস্থা নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছে, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে। পাশাপাশি দুই হাজার দুই শতাধিক মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত রাখা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ইরান বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি, যদিও সরাসরি সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করেন।

ইরানের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিকও প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা সবার মৌলিক অধিকার।

এর মধ্যেই ইরানের সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইরান সরকার এই আহ্বানকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত