ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
স্বাস্থ্য সংকট কাটিয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে জামায়াতের শীর্ষ নেতা
নিজস্ব প্রতিবেদক :দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় অসুস্থ থাকার পর আজ (শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর) জনসম্মুখে এসে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীর কাফরুল দক্ষিণ থানার উদ্যোগে আয়োজিত একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি নিজের অসুস্থতা, চিকিৎসা এবং পুনরায় সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়ে আবেগময় বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘ একমাসের বেশি সময় পর মিডিয়ার সামনে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। এজন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা আদায় করছি।"
তিনি বলেন, “আল্লাহ তৌফিক না দিলে আমি আজ এখানে এসে কথা বলতে পারতাম না। এই সময়টা আমার মনে হয়েছে জাতিকে কিছু বলার দায়িত্ব আমার। আমার দায়িত্ব অন্য কেউ পালন করার আর সুযোগ নেই। তাই আমি আল্লাহর দরবারে তৌফিক কামনা করেছিলাম—যেন অন্তত সেই কথাগুলো বলতে পারি, যা মানুষের কল্যাণের জন্য জরুরি। আল্লাহ সেই সুযোগ দিয়েছেন।”
নিজের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১৯ জুলাই সমাবেশের দিন আমি যখন পড়ে যাই, তখন দেশের মানুষ টিভি স্ক্রিন কিংবা মোবাইলে তা দেখছিলেন। ইউনাইটেড হসপিটালের খ্যাতিমান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মমিনুজ্জামান তখনই আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে এটি হৃদ্রোগজনিত সমস্যা হতে পারে।”
এরপর তাঁর চিকিৎসার জন্য ২২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়, যেখানে তাঁর হৃদ্যন্ত্রে ব্লক শনাক্ত হয়। ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসকরা তাঁকে দেশের বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে তিনি তা গ্রহণ না করে বিশ্বাস রেখেছেন জন্মভূমিতেই আরোগ্য লাভের সম্ভাবনায়।
তিনি বলেন, “চিকিৎসকরা বলেছিলেন সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক কিংবা আমেরিকায় যেতে। আমি তখন জিজ্ঞেস করেছিলাম—আল্লাহ কি কেবল সেই দেশগুলোতেই আছেন? তারা বললেন, আল্লাহ সর্বত্র আছেন। আমি বললাম, আল্লাহ যদি সেখানে সুস্থ করতে পারেন, তবে বাংলাদেশেও করতে পারেন।”
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “সুস্থতা-অসুস্থতা কার হাতে—এক বাক্যে সবাই স্বীকার করেছেন, আল্লাহর হাতে। তাই আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহই আমাকে আবার জনসম্মুখে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছেন।”
উল্লেখ্য, ১৯ জুলাই রাজধানীতে একটি সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মঞ্চে পড়ে যান ডা. শফিকুর রহমান। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেদিন তাঁর রক্তচাপ, গ্লুকোজ ও হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। মস্তিষ্কেও কোনো জটিলতা পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতার জন্য তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
দীর্ঘ দেড় মাস পর ডা. শফিকুর রহমানের এই প্রত্যাবর্তনে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্যে দলের শীর্ষ নেতার জনসম্মুখে উপস্থিতি কর্মী-সমর্থকদের জন্য একটি সাহস এবং অনুপ্রেরণার বার্তা বহন করে।
নয়ন
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির
- পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- ঢাবির ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি
- স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ পোস্ট বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের স্মারকলিপি