ঢাকা, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২
ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত সংগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আটটি রাজনৈতিক দল গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার সভা, গণভোট এবং অধ্যাদেশের জারির মতো বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। একই সঙ্গে, কোনো কোনো দল পরামর্শ দিয়েছে যে, সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরের পর সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূস আপিল বিভাগের মতামত নিতে পারেন।
রোববার (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এসব প্রস্তাব দেয় রাজনৈতিক দলগুলো। বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।
কমিশন সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এবি পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও এলডিপির সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বৈঠক করে। সোমবার একই সময়ে আরও ১৭টি দলের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন।
রাজনৈতিক দলগুলোর সূত্রে জানা গেছে, কমিশন আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জুলাই সনদ তৈরি করতে চায়। এজন্য আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে চূড়ান্ত জুলাই সনদ রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো হবে, যেখানে বাস্তবায়নের রূপরেখা দেওয়া থাকবে। কমিশন দলগুলোকে এই রূপরেখা মেনে চলার অনুরোধ করবে।
এর আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে একাধিকবার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে কমিশন। এরপর রোববার আটটি দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলো কমিশন।
কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ ঢাকা পোস্টকে জানান, বাস্তবায়ন সম্পর্কে দলগুলোর মতামত জানতে কমিশন বৈঠক করছে এবং সনদের চূড়ান্ত কপি তৈরির জন্য তাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। দলগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন মতামত দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি দলের প্রতিনিধি বলেন, কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচনের কথা বলেছেন, আবার কোনো রাজনৈতিক দল গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছে। কেউ কেউ সাধারণ নির্বাচনের কথাও বলেছেন। কমিশন কোনো মন্তব্য করেনি এবং সোমবার আরও কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে তারা সনদ তৈরির কাজ শেষ করতে চান বলে দলগুলোকে জানিয়েছে। কমিশনের সদস্যরা দলগুলোর মতামত বিশ্লেষণ ও খসড়ার ভাষা পরিমার্জন করার জন্য একাধিক বৈঠক করেছেন বলেও আলী রীয়াজ জানান।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজ কমিশনের সঙ্গে আমাদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। তারা জানিয়েছেন আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে সনদ চূড়ান্ত করে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠাবেন। তিনি আরও বলেন, সনদ বাস্তবায়নের আইনি বিষয়ে তাদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে দলগুলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া আরেকটি দলের শীর্ষ নেতা জানান, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে করার মাধ্যমে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চেয়েছেন, যার মাধ্যমে আইনি ভিত্তি পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামত নিতে পারে সরকার।
আরেকটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ওপর ভিত্তি করে সনদের অঙ্গীকারনামায় কিছু পরিবর্তন আসবে এবং বাস্তবায়নের জন্য আলাদা একটি রূপরেখা তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, গণভোটের প্রস্তাব এলেও এর পেছনে শক্ত যুক্তি দেখানো যায়নি, কারণ নেতিবাচক ফলাফলের ঝুঁকি থাকে। তাই একটি প্রস্তাব হলো – সনদে দলগুলোর স্বাক্ষরের পর ড. ইউনূস আপিল বিভাগের কাছ থেকে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি মতামত নিতে পারেন।
রাষ্ট্র সংস্কারে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গত ২০ মার্চ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দুই দফায় ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছে। সেই আলোচনা থেকে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে কমিশন গত ১৬ আগস্ট জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর একটি খসড়া উপস্থাপন করে। খসড়ায় একটি ভূমিকা, ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও একটি অঙ্গীকারনামা রয়েছে।
২৩ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ ২৯টি দল খসড়া নিয়ে মতামত দিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ভূমিকার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও অঙ্গীকারনামার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমালোচনা করেছেন। এছাড়া জামায়াত ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল সনদের টেকসই বাস্তবায়নের জন্য একটি আইনি কাঠামোর ওপর জোর দাবি জানিয়েছে।
খসড়াটি চূড়ান্ত করার অংশ হিসেবে কমিশন গত ১০ আগস্ট থেকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ আইনবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। বিশেষজ্ঞরা সনদ গ্রহণের জন্য বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজন বা একটি বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ জারি করা।
সোমবার বিকেল ৩টা থেকে ১৭টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের মহাসচিব মোমিনুল আমিন, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও বাসদ মার্কসবাদী দলের সমন্বয়ক মাসুদ রানা ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে শেয়ারবাজারের খান ব্রাদার্স
- বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে শেয়ারবাজারের ১১ কোম্পানিতে
- মূলধন ঘাটতিতে দুই ব্রোকারেজ হাউজ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- চলতি বছর শেয়ারবাজারে আসছে রাষ্ট্রায়াত্ব দুই প্রতিষ্ঠান
- মার্জারের সাফল্যে উজ্জ্বল ফার কেমিক্যাল
- সাকিবের মোনার্কসহ ৮ ব্রোকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- তালিকাভুক্ত কোম্পানির ১৫ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা
- বিমা আইন সংস্কার: বিনিয়োগ ও আস্থায় নতুন দিগন্ত
- শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর প্রথম ‘নো ডিভিডেন্ড’
- শেয়ারবাজারে রেকর্ড: বছরের সর্বোচ্চ দামে ১৭ কোম্পানি
- তিন শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, ডিএসইর সতর্কবার্তা
- ডেনিম উৎপাদন বাড়াতে এভিন্স টেক্সটাইলসের বড় পরিকল্পনা
- চলতি সপ্তাহে ঘোষণা আসছে ৫ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- ব্যাখ্যা শুনতে ডাকা হচ্ছে শেয়ারবাজারের পাঁচ ব্যাংককে
- ব্যাংকিং খাতে এমডিদের পদত্যাগের ঢেউ: সুশাসনের সংকট স্পষ্ট