ঢাকা, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

বাংলাদেশে 'নীলনকশার' নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না: নায়েবে আমির

২০২৫ আগস্ট ৩১ ২১:০১:২১

বাংলাদেশে 'নীলনকশার' নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না: নায়েবে আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, বাংলাদেশে আর কোনো 'নীলনকশার' নির্বাচন হবে না এবং হতে দেওয়া হবে না। তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে কোনো ধরনের পরিকল্পিত নির্বাচনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

রোববার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে যমুনায় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে, বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াতের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

ডা. তাহের স্পষ্ট করে বলেন, এই সরকার জাতিকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেবে। তিনি সতর্ক করেন যে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে না গিয়ে যদি একটি পরিকল্পিত 'ডিজাইন' নির্বাচনের দিকে যাওয়া হয়, তাহলে গণতন্ত্রকামী, দেশপ্রেমিক, ভারতবিরোধী শক্তির পক্ষে এরকম পরিকল্পিত নীলনকশার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ সংকুচিত হবে, যা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে না।

জামায়াত নেতা ড. ইউনূসকে বলেন, "এই সরকারকে দেখে মনে হচ্ছে সব কিছুর উপর হাত-পায়ের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়েছে। এখন সরকার যদি হাত-পা ছেড়ে দেয় তাহলে দুষ্কৃতিকারীরা তো সুযোগ নিবে। আমরা বলেছি, আগে আপনারা যা ছিলেন, এখন তার চেয়েও শক্তিশালী ও কঠোর হতে হবে। কারণ একটি জাতীয় নির্বাচন তো করতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "যে সমস্ত সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের দালালেরা এখনো সিভিল ও পুলিশসহ প্রশাসনে রয়ে গেছে তাদের অবিলম্বে সরাতে হবে। দল নিরপেক্ষ, দক্ষ, যোগ্য লোকদের সেখানে নিয়ে আসতে হবে।" ড. ইউনূস তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং তার ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বলে ডা. তাহের জানান।

নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, জামায়াতের বক্তব্য যুক্তিসঙ্গত মনে হয়েছে এবং বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্যান্য উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা দেখতে চান কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়।

'জুলাই সনদ' নিয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়ে শুধু একটি দল বিরোধিতা করছে এবং বাকি ৩১টি দলই ঐক্যমতে এসেছে। নির্বাচনী ট্রেন ছাড়লেও এখনো প্ল্যাটফর্ম পার হয়নি উল্লেখ করে ডা. তাহের বলেন, নির্বাচনের সঠিক প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাক্টরগুলো সুরাহা হলে তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন।

তিনি বলেন, ড. ইউনূস তিনটি বিষয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করেছিলেন: কিছু বিষয়ে রিফর্ম, বিচারের দৃশ্যমানতা এবং বিশ্বমানের আনন্দঘন একটি নির্বাচন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এই সমস্ত অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি সংস্কার বিষয়ে ৩১টি দলের মধ্যে ঐক্যমত্যের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, অল্প সংখ্যক দলের বাধার কারণে তা বাস্তবায়ন কঠিন হচ্ছে।

ডা. তাহের প্রশ্ন তোলেন, লন্ডনে গিয়ে একটি দলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করার পর জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়াটা একটি দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার শামিল কিনা। তিনি জাতীয় ঘোষণাপত্র এবং একই দিনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, এতে কোনো চাপ আছে কিনা।

রোজার আগে নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনো দ্বিমত নেই, তবে একটি দল যেভাবে চেয়েছে সেভাবে সবকিছু হচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "আমরা বাকি সব দল এক আছি, না, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। আর এজন্য আমরা লড়াই করছি, দাবি করছি। কিন্তু আরেকটি দল সব ছেড়ে একাই এগিয়ে যাচ্ছে, এত করে লেবেল প্লেয়িং এর ক্ষেত্রে বৈষম্য হচ্ছে।"

আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ৩১টি দলের মধ্যে ২৫টি দল পিআর চায়। তিনি বলেন, "আমরা তো প্রস্তুতি রাখিনি। তাহলে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন আয়োজনের কারণে আপনিও প্রশ্নবিদ্ধ হবেন। আমরা নির্বাচন চাই ফেব্রুয়ারিতে কিন্তু তার আগে এইসব প্রশ্নের সবাই মিলে একটা সমাধান করতে হবে।"

তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড দখলমুক্ত করা বা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে তাদের ব্যর্থতা নিয়ে। ডা. তাহের আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে দেশ নৈরাজ্যের দিকে যেতে পারে।

এসপি

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত