ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন, নুর হামলার পর নিষিদ্ধের দাবি জোরালো
বিশেষ প্রতিবেদন : রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনার কেন্দ্রে এখন জাতীয় পার্টি। রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদের মিছিলে হামলার ঘটনাকে ঘিরে দলটির বিরুদ্ধে যেভাবে জনরোষ তৈরি হয়েছে, তাতে করে ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক টিকে থাকা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন, যার মধ্যে নুরের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। এই ঘটনার রেশ এখন শুধু একটি দলীয় কোন্দলে সীমাবদ্ধ নেই— তা পরিণত হয়েছে একটি জাতীয় বিতর্কে।
গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের তরফে দাবি উঠেছে, জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করতে হবে। ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলায় দলটির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবাদে ঢাকাতেও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।
জাতীয় পার্টিকে ঘিরে এতোটা তীব্র প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দেয়, শুধু একটি সংঘর্ষ নয়, দলটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েই নতুন করে জনমনে বিরূপ ধারণা তৈরি হয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, অতীতে ফ্যাসিবাদী সরকারে অংশগ্রহণ, সামরিক শাসনের দোসর ভূমিকা, এবং সাম্প্রতিক সময়ে গণবিরোধী কর্মসূচিতে সরকারের সহযোগী হিসেবে উপস্থিত থাকা— এসব কারণে জাতীয় পার্টিকে ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে বিরাজমান ক্ষোভটি নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই দলটি একটি ‘প্রক্সি’ শক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে সরাসরি নাম জড়ানোয় এই ক্ষোভ এখন রাজনৈতিক দাবিতে পরিণত হয়েছে। সরকারবিরোধী শক্তিগুলো এই সুযোগে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবি সামনে এনে একটি বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো জাতীয় পার্টি নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসলেও, আইনি কাঠামোর আওতায় সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত হালকা কিছু নয়— তবে অতীতে এমন নজির থাকায় এটিও অসম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর রাজনৈতিক ভারসাম্য পুনঃগঠনের প্রক্রিয়ায় জাতীয় পার্টিও একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে যখন অভিযোগ রয়েছে যে, দলটি আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বা ব্যবহৃত হয়েছে— তখন জনআস্থা হারানো একটি বড় সংকেত।
সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোতে যেভাবে জাতীয় পার্টিকে সরাসরি দায়ী করে বক্তব্য আসছে এবং গণআন্দোলনে দলটির বিরুদ্ধেই রাস্তায় মানুষ নামছে, তাতে স্পষ্ট— জাপার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অনিশ্চয়তার মুখে।
এনজে
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন সরাসরি
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: Live দেখুন এখানে
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ সেপ্টেম্বর)
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ সেপ্টেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- ডিসেম্বরে দেশে ফেরা নিয়ে নতুন ঘোষণা হাসিনার
- মাসিক ১,৪০০ ইউরো স্টাইপেন্ডসহ ইউরোপে মাস্টার্সের সুযোগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৬ সেপ্টেম্বর)