ঢাকা, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২

নুরের সুস্থতাই আমাদের সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি: জাপা মহাসচিব

২০২৫ আগস্ট ৩০ ২০:৫৫:০৯

নুরের সুস্থতাই আমাদের সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি: জাপা মহাসচিব

জাতীয় পার্টির (জাপা) কাকরাইল অফিসে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর শনিবারও (৩০ আগস্ট) হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানিয়েছেন, শুক্রবারের সংঘর্ষে তাদের দলের ২৯ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে কয়েকজন গুরুতর। তিনি আরও বলেন, শনিবারও তাদের অফিসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, "আজও আমাদের পার্টির কাকরাইল অফিসে আগুন দেওয়া হলো। ভাঙচুরের চেষ্টা করা হলো। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে দেশকে বিশৃঙ্খলার দিকে নিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা হচ্ছে। জাতীয় পার্টিকে ভিকটিম করা হচ্ছে। জাতীয় পার্টিকে টার্গেট করা হচ্ছে। এটা অবশ্যই দুঃখজনক।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে রাষ্ট্র ও সরকার এ বিষয়ে সতর্ক ভূমিকা নেবে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মহাসচিব জানান, তারা পার্টির ফোরামে এ বিষয়ে আলোচনা করছেন। তারা পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছেন। একই সাথে, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, "তার সুস্থতাই আমাদের সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি।" আইনগত বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবিসহ বিভিন্ন দাবিতে গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ ও মশাল মিছিলকে কেন্দ্র করে কাকরাইলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ করে। এই ঘটনার জের ধরে গণঅধিকার পরিষদের পুরানা পল্টনের অফিসের গলিতে মারধরের শিকার হন সভাপতি নুরুল হক নুর। বর্তমানে তিনি মাথা ও নাকে আঘাত নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শনিবার এ ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও এবি পার্টিসহ বিভিন্ন দল প্রতিবাদ ও সমাবেশ করে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিসহ অনেক দলের নেতারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

জামায়াত এবং এনসিপি ঘরানার দলগুলো অভিযোগ করেছে যে, আগামী নির্বাচনেও রাষ্ট্রীয় সংস্থার তত্ত্বাবধানে জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল করার পরিকল্পনা চলছে। অন্যদিকে, বিএনপি মনে করছে, আগামী নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টার অংশ হিসেবেই জাতীয় পার্টিকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতা শুরু হয়েছে। তারেক রহমান এক বিবৃতিতে গণতন্ত্রপন্থীদের সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় আবারও একদল জাপাবিরোধী লোক জাপার কার্যালয় ভাঙচুর করতে যায়। বাংলা ট্রিবিউনের সরেজমিন প্রতিবেদকরা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পুলিশের উপস্থিতিতেই কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। ফারুক ও রাশেদ খানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল শেষ হওয়ার পরপরই এই হামলার চেষ্টা হয়। একপর্যায়ে জাপার কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে ভেতরের একটি কক্ষে থাকা বেশ কিছু প্রকাশনা সামগ্রী পুড়ে যায়। পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় এইচ এম এরশাদের ছবির ফলক ভেঙে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়।

জাতীয় পার্টির উচ্চপর্যায়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জাপাকে ধৈর্য ধরার এবং নেতাকর্মীদের দিয়ে পাল্টা অবস্থান সৃষ্টি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জাপার নেতৃত্বকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের আচরণ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় জাপার শীর্ষ পর্যায়ের একজন এই প্রতিবেদককে বলেন, "আমাদের পক্ষ থেকে এখনই কিছু বলতে চাই না। পরিস্থিতি আরও শান্ত হোক। জাতীয় পার্টি কখনও দোসর ছিল না। শুরু থেকে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের জুলাই আন্দোলনের পক্ষ অবলম্বন করেছেন। কোনো দল বিরোধী দল হতে চায় না, চায় ক্ষমতায় যেতে। জাতীয় পার্টিও তাই।" বিএনপির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, "এখনও এমন কিছু ঘটেনি। বিএনপি তো কিছু বলেনি। আমরা নিজেরা কিছু বলবো না।"

ওই শীর্ষ নেতা আরও উল্লেখ করেন যে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল, যা কোনো আইনত অপরাধ নয়। তিনি বলেন, "আরও অপেক্ষা করবো। তারপর দলের উচ্চপর্যায়ের অবস্থান ব্যক্ত করবো।"

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, "নির্বাচনের তফসিল তিন মাস আগে হওয়ার কথা। তিন মাস আগে কোনো পার্টির অফিসের মধ্যে এমন বিশৃঙ্খলা করলে অবশ্যই ভোটের পরিবেশকে ব্যাহত করে। ভোট না করারই পাঁয়তারা।" তিনি আরও বলেন, "যারা এই বিশৃঙ্খলা করছে তাদের অ্যান্টি ভোট ফোর্স হিসেবেই আমরা মনে করি। সেক্ষেত্রে সরকারের দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোটের আগে যদি বিশৃঙ্খলাবাহিনী মাঠে থাকে, তাহলে তো সুষ্ঠু ভোট হবে না, ভোটের ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ থাকবে না।"

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত