ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকের উদ্যোগে এল ১৭ কোটি টাকার ফ্রি ওষুধ
রাজশাহীর ইন্টার্ন চিকিৎসক শীর্ষ শ্রেয়ান দেখিয়ে দিলেন—ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভবও সম্ভব। স্ট্রোক ও হৃদরোগীদের জন্য যে ওষুধ অনেক রোগীর নাগালের বাইরে, সেটিই এবার বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থা ডিরেক্ট রিলিফ তাদের অনুদান হিসেবে দিয়েছে আড়াই হাজার ভায়াল এল্টিপ্লেস ইনজেকশন, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা। গত ২৭ আগস্ট থেকে এই জীবনরক্ষাকারী ওষুধ প্রয়োগ শুরু হয়েছে।
শীর্ষ শ্রেয়ান ময়মনসিংহের সন্তান। তার বাবা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। সাভারে বেড়ে ওঠা শীর্ষ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন রাজশাহী মেডিকেল কলেজে। জুলাইয়ে এমবিবিএস শেষ করে এখন ইন্টার্নশিপ করছেন। ইন্টার্ন চিকিৎসক হয়েও তার উদ্যোগে এত বড় অনুদান আসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গর্বিত।
এল্টিপ্লেস (Alteplase) হচ্ছে থ্রোমবোলাইটিক ওষুধ, যা রক্তনালিতে জমাট বাঁধা রক্ত গলিয়ে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ফিরিয়ে আনে। বাংলাদেশে এ ওষুধের সরবরাহ সীমিত এবং দামও আকাশচুম্বী। ৫০ মিলিগ্রামের একটি ভায়ালের দাম প্রায় ৫০ হাজার টাকা। রোগীর ওজন ৬০ কেজির বেশি হলে প্রয়োজন পড়ে দুই ভায়াল। স্ট্রোক রোগীদের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করতে হয় আক্রমণের সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে, আর হৃদরোগীদের জন্য সময়সীমা সাড়ে ১২ ঘণ্টা। ফলে অনেক দরিদ্র রোগী ওষুধটি কিনতে সক্ষম হন না।
শীর্ষের গবেষণার সূত্র ধরেই এসেছে এই অনুদান। এমবিবিএসের পঞ্চম বর্ষে থাকতেই তিনি যুক্ত হন ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএসও) একটি গবেষণা প্রকল্পে। তার গবেষণাপত্র পরবর্তীতে জার্নালে প্রকাশিত হয় এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে ‘সেরা গবেষণা’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বিষয়টি নজরে আসে ডিরেক্ট রিলিফের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ডিরেক্টর গর্ডন উইলককের। গত মার্চে তিনি শীর্ষকে ই-মেইলে জানান, রামেক হাসপাতালের সক্ষমতা থাকলে তারা এই ওষুধ সরবরাহ করতে চান।
এরপর শীর্ষ বিষয়টি তুলে ধরেন মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আযাদের কাছে। ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে রামেক হাসপাতাল এবং ডিরেক্ট রিলিফের মধ্যে হয় চুক্তি। সব প্রক্রিয়া শেষে গেল ২০ আগস্ট ওষুধ ঢাকায় আসে এবং ২৫ আগস্ট রাজশাহীতে পৌঁছে।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহাম্মদ জানান, বুধবার থেকে বিনামূল্যে এই ওষুধ রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭০ ভায়াল ব্যবহার হয়েছে। তিনি বলেন, “এটা শীর্ষর কৃতিত্ব। একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক হয়েও এত বড় কাজ করেছে, আমরা গর্বিত।”
অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফয়সাল আলম বলেন, “শিক্ষকরা নানা ফান্ড এনেছেন, কিন্তু শিক্ষার্থী হয়ে এরকম উদ্যোগ শীর্ষ শ্রেয়ানই প্রথম দেখালেন।”
শীর্ষ নিজেও অনুপ্রাণিত। তিনি বলেন, “এল্টিপ্লেসের মতো দামি ওষুধ পেয়ে অনেক রোগীর জীবন বাঁচবে। ভবিষ্যতে আরও প্রয়োজনীয় ওষুধ আনার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ সেপ্টেম্বর)