×

ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতায় সরকারের অর্জন ক্ষুণ্ণ হচ্ছে শেয়ারবাজারে

২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৫:১২:১৪

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতায় সরকারের অর্জন ক্ষুণ্ণ হচ্ছে শেয়ারবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক: পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে শেয়ারবাজারে যে মন্দা পরিস্থিতির সূচনা হয়েছিল, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তা থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতিতে সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। কিন্তু বাজারকে আরও স্থিতিশীল করতে কমিশন পরিবর্তন করে বর্তমান কমিশন গঠন করা হয়। তবে ফলাফল উল্টো দাঁড়ায়। বাজারের কোনো উন্নতি হয়নি, বরং এটি তলানির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পরিস্থিতি দেখে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যেতে পারে।

তারা বলেন, বাজারের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। এ অবস্থা চলতে থাকলে খুব শিগগিরই সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যাবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী অনেক ক্ষেত্রেই সাফল্য দেখিয়েছেন। দেশের অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করতে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। শেয়ারবাজারের প্রতি তার অগাধ আন্তরিকতা থেকেই কমিশন পরিবর্তন করেছিলেন। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে কমিশন গঠন করা হয়েছিল, তা সফল হয়নি। এতে বর্তমান কমিশন বিতর্কের মুখে পড়েছে। ধারাবাহিক দরপতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। বাজার অস্থিরতার জন্য বিনিয়োগকারীরা বর্তমান কমিশনকেই দায়ী করছেন।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার চেয়েছিল শেয়ারবাজার আরও উন্নত ও শক্তিশালী হোক। কিন্তু বর্তমান কমিশন তা করতে পারেনি। বরং দিন যত যাচ্ছে, বাজার পরিস্থিতি ততই খারাপ হচ্ছে। পরিস্থিতি দেখে প্রশ্ন উঠছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে কেউ আছেন কি না। তারা যদি বাজার নিয়ন্ত্রণে কী করতে হবে তা না জানেন, তবে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা উচিত। বর্তমান কমিশনের কারণে বর্তমান সরকারের অন্যান্য সাফল্য ম্লান হচ্ছে এবং প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ এ অবস্থা চলতে থাকলে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটও তলানিতে পৌঁছাবে। তাই বর্তমান কমিশন নিয়ে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এদিকে, আজ (২৬ অক্টোবর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেন কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে।

এদিকে, আজ (২৬ অক্টোবর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেন কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৩.০০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৯৯.৫৩ পয়েন্টে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৭.২৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩.৪৩ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ১০.৯৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯০.৭৪ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে মোট ৩৮৪টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭৪টির দর বেড়েছে, ২৫২টির দর কমেছে এবং ৫৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

ডিএসইতে এদিন প্রায় ৪১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৪৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন কমেছে প্রায় ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

এদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগেরদিন সিএসইতে ১৬ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।

আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৬৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ৯৭টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২২টির।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২.৭৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৫৮.৬৪ পয়েন্টে। আগের দিন সূচক সিএএসপিআই ২২.৪৯ পয়েন্ট কমেছিল।

আরিফ/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

শেয়ারবাজার এর অন্যান্য সংবাদ