×

ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

এল-সাইদ জিতলে ক্রিসমাস বাতিল হবে, ট্রাম্পের মন্তব্য

২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১১:৫২:৫৬

এল-সাইদ জিতলে ক্রিসমাস বাতিল হবে, ট্রাম্পের মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আবদুল এল-সাইদকে লক্ষ্য করে মুসলিমবিদ্বেষী আক্রমণ আরও জোরালো করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রগতিশীল চিকিৎসক নির্বাচনে জিতলে ক্রিসমাস বাতিল হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

রোববার মিশিগানের পোর্ট হুরন শহরে যান ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে তাঁর এই সফর। সেখানে কয়েক শ সমর্থকের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টা বক্তৃতা করেন তিনি। বক্তৃতার বড় অংশজুড়েই ছিল মিশিগানের সিনেট নির্বাচন। আল-জাজিরার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প এল-সাইদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। এর মধ্যে তাঁকে ‘জিহাদি’ বলার অভিযোগও রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘সিনেটে ঢোকার আগে মেটাল ডিটেক্টরের ভেতর দিয়ে যেতে হবে, এমন একমাত্র সিনেটর হবেন তিনি। আমি চাই তার জন্য মেটাল ডিটেক্টর থাকুক।’

এই নির্বাচন রিপাবলিকানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিশিগানের সিনেট আসনটি শূন্য হচ্ছে। সেখানে এল-সাইদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে মোট আসন ১০০টি। বর্তমানে ৫৩টি আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের। এ বছর ভোট হবে মাত্র ৩৫টি আসনে। অবসরে যেতে যাওয়া ডেমোক্রেটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনটি রজার্স জিতলে ডেমোক্র্যাটদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে তাঁদের আরও পাঁচটি আসন নিজেদের দখলে নিতে হবে।

আল-জাজিরা জানিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই এল-সাইদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে আক্রমণ করছেন ট্রাম্প। এর আগে তিনি এল-সাইদের নাম ভুলভাবে ‘মোহাম্মদ’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন। রোববার সেই আক্রমণ আরও তীব্র করেন তিনি।

বক্তৃতায় ট্রাম্প মিথ্যা অভিযোগ করেন, এল-সাইদ যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াহ আইন চালু করতে চান। তিনি বলেন, ‘তাই আবদুল... চায় আমাদের দেশ শরিয়া আইনের দিকে যাক। সে যদি কখনো তা করতে পারে, তাহলে তার বিচার সবার আগে হওয়া উচিত। আমি সাক্ষী হব।’

সমাবেশে এল-সাইদের নাম উচ্চারিত হলেই উপস্থিত কয়েকজন ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে চিৎকার করছিলেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি এসেছি এক জিহাদি মুসলিম ব্রাদারহুড সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হওয়া ঠেকাতে।’

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী নাগরিক এল-সাইদ স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা। তিনি দেশটির সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছেন। তিনি কখনো মুসলিম ব্রাদারহুড বা অন্য কোনো বিদেশি সংগঠনের সদস্য ছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ নেই।

২০১৬ সালের নির্বাচনের সময় থেকেই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে মুসলিমবিদ্বেষকে ব্যবহার করে আসছেন ট্রাম্প। ২০১৫ সালে প্রথম নির্বাচনী প্রচারের শুরুর দিকে তিনি বলেছিলেন, ‘মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার’ পক্ষে তিনি। এর দুই বছরেরও কম সময় পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি। ওই আদেশে কয়েকটি মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়। এটি ‘মুসলিম নিষেধাজ্ঞা’ নামে পরিচিতি পায়। তবে সেই আদেশ বেশিদিন কার্যকর থাকেনি।

রোববারের বক্তৃতায়ও মুসলিম অভিবাসন নিয়ে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আবদুল আর ডেমোক্রেটরা জিতলে তারা বন্যার বাঁধ খুলে দেবে। আমাদের তীরে ডেকে আনবে জিহাদিদের দল। সহিংসতা আর সন্ত্রাসের এমন দুঃস্বপ্ন তৈরি হবে যে ক্রিসমাসটাও আপনারা করতে পারবেন না।’

ট্রাম্পের এসব আক্রমণকে এর আগে বেশির ভাগ সময় ‘মনোযোগ ঘোরানোর’ চেষ্টা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এল-সাইদ। তিনি বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোই তাঁর অগ্রাধিকারে রয়েছে। এর মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয় রয়েছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ