×

ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

দুই বাংলাদেশির মৃ*ত্যুদণ্ড কার্যকরে কনস্যুলেটের অবহেলা খতিয়ে দেখছে সংসদীয় কমিটি

২০২৬ অক্টোবর ২৫ ২২:০০:৫৬

দুই বাংলাদেশির মৃ*ত্যুদণ্ড কার্যকরে কনস্যুলেটের অবহেলা খতিয়ে দেখছে সংসদীয় কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবের মক্কায় বাংলাদেশের দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কোনো দুর্বলতা বা অবহেলা ছিল কি না, তা জানতে চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ ঘটনায় অবহেলা হয়ে থাকলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ১৪ দিন আগে সৌদি আরব প্রায় আড়াই হাজার বন্দীর একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। ওই তালিকায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের নাম থাকলেও বিষয়টি যথাযথভাবে চিহ্নিত করা হয়নি।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবে নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে, সৌদি আরবে ১ থেকে ২ শতাংশ বাংলাদেশি নারী কর্মী নির্যাতনের শিকার হন। এ হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে কমিটি। তাদের মতে, শতাংশের হিসাবে হার কম মনে হলেও সংখ্যার হিসাবে নারী নির্যাতনের ঘটনা অনেক বেশি।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, কনস্যুলেট আগে কেন বিষয়টি জানতে পারেনি, সেখানে কোনো দুর্বলতা বা অবহেলা ছিল কি না এবং সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও দেশটি কেন আগেভাগে এ তথ্য জানায়নি, তা জানতে চেয়েছেন তাঁরা। তাঁর ভাষ্য, এ ঘটনা থেকে বোঝা যাচ্ছে, সবকিছু মিলিয়ে এখানে একটি দুর্বলতা রয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ১৪ দিন আগে তথ্য বিনিময়ের বিষয়টি উল্লেখ করে জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, ‘ওনারা এটা স্বীকার করেছেন যে ওই রিপোর্টটা আসলে ওইভাবে কেউ আইডেন্টিফাই করেনি।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে, ওই তালিকায় বন্দিদের যে শ্রেণিতে রাখা হয়েছিল, তা দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা হয়েছিল, তাঁদের ছয় মাস থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি। এ ঘটনায় সৌদি আরবের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের জবাব চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পর সংসদীয় কমিটিকেও তা জানাতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কোনো অবহেলা ছিল কি না, থাকলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।

সৌদি আরবে নারী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, সেখানে নারী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের অনেক দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় একটি তথ্য তুলে ধরেছে। বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার নারী শ্রমিক রয়েছেন। পাসপোর্ট নিতে এলে তাঁদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও জরিপ করা হয়। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬৪ জন নারী গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

সৌদি আরবে ১ থেকে ২ শতাংশ নারী শ্রমিক নির্যাতনের শিকার হন বলে মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১–২ শতাংশ শুনলে ছোট সংখ্যা বলা হয়; কিন্তু ১ হাজার ৩৬৪, এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’ এ ধরনের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত নারী শ্রমিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে কমিটি।

জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, এস কে আজিজুল বারী, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী ও সানজিদা ইসলাম অংশ নেন। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে যোগ দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ