×

ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারেজের কাজ শুরুর আশা: পানিসম্পদমন্ত্রী

২০২৬ অক্টোবর ২৫ ২০:৩১:১৩

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারেজের কাজ শুরুর আশা: পানিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বলেও আশা করছেন তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, দেশের এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী, অর্থাৎ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সাত কোটি মানুষ এ প্রকল্পের সুফল ভোগ করবেন। এর ফলে ওই অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চন পার্ক এলাকার পদ্মাপাড়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে কারিগরি বিষয়ে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

সভায় বিগত সরকারের সমালোচনা করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনির্বাচিত বা তৎকালীন সরকার দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে অন্য দেশের ইশারায় দেশ পরিচালনা করেছে। নিজেদের শক্তি ও সাহসের অভাবে তারা বড় কোনো সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছিল।

২০১৬ সালে তিস্তা ব্যারাজসহ বড় বড় প্রকল্প নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রত্যাশা তৈরি হলেও সদিচ্ছার অভাব ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশের স্বার্থ ও জনগণের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

নির্বাচিত হওয়ার আড়াই মাসের মাথায় বর্তমান সরকার এমন একটি সাহসী ও ‘মাস্টারমাইন্ড’ উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এটি তাঁদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হলেও প্রকল্পটি সফল করতে তাঁরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন। প্রথম পর্যায়ে এ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়সহ পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে মোট ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা। প্রায় সাত বছর মেয়াদি এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা কম-বেশি সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।

প্রকল্পের সম্ভাব্য সুফল সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাব অনুযায়ী, দেশের এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী অর্থাৎ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সাত কোটি মানুষ এর সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।

কারিগরি আলোচনায় প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ জানান, নদীর গভীরতা পরিবর্তনের কারণে ২০১৬ সালে প্রণীত পদ্মা ব্যারেজের নকশায় অবস্থানগত কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে প্রকল্পের সব সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করা হবে।

তিনি আরও জানান, ব্যারেজের উজানে ১৬৫ কিলোমিটার নদী অংশে পানি সংরক্ষণ করা হবে। এতে পানির চাপ ও উচ্চতা বাড়বে। এ কারণে পাবনাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার শহর রক্ষা বাঁধের উচ্চতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও প্রকল্পে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বর্ষাকালে ব্যারেজের ৭৮টি গেটই খোলা থাকবে। ফলে বড় ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিব, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরেফা সুলতানা রুমা, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. একেএম শাহাবুদ্দিন, প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ, পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার এবং বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত