×

ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

ভারতের আন্দোলনকে বাংলাদেশ-নেপালের সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে মেলাতে নারাজ সিজেপি নেতা

২০২৬ অক্টোবর ২১ ১১:০৪:১৫

ভারতের আন্দোলনকে বাংলাদেশ-নেপালের সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে মেলাতে নারাজ সিজেপি নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে তরুণদের আন্দোলনকে নেপাল ও বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

কারাবন্দী সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে দিপকে বলেন, তাঁদের শান্ত ও অহিংস আচরণ কোনো সহিংস প্রতিবাদ নয়; বরং তা মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলনের মতো। বিদেশের ঘটনাবলির দিকে না তাকিয়ে ভারতের বিক্ষোভকারীদের অহিংস মনোভাবের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দিপকে বলেন, ‘যারা ক্রমাগত আঙুল তুলে বলছেন, ফ্রান্সে কী ঘটছে তা দেখুন; তাঁদের একটু লজ্জিত হওয়া উচিত এবং ভারতের দিকে তাকানো উচিত। ভারতে সৌরভ দাস ও আশুতোষ মুখে হাসি নিয়ে জেলে গেছেন। অন্যান্য জায়গায় যা ঘটছে, তাঁরা তেমন কিছুই করেননি। এমনকি তাঁরা যখন জেনেছেন যে তাঁদের বেআইনিভাবে কারাবন্দী করা হচ্ছে, তখনও তাঁরা শান্তি ও সম্প্রীতির পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁরা মনে রাগ বা ঘৃণা না পুষে বরং হাসিমুখে কারাগারে প্রবেশ করেছেন।’

দেশের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভকে বিদেশের সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের ঘটনার সঙ্গে মেলানোর বিরোধিতা করেন দিপকে। এ সময় কারাবন্দী দুই নেতার আচরণের পার্থক্যও তুলে ধরেন তিনি।

অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘মানুষ নেপাল বা বাংলাদেশের কথা বলে; কিন্তু আমাদের সহযোদ্ধাদের দিকে তাকান। তাঁরা কারও উসকানিতে পা না দিয়ে হাসিমুখে জেলে গেছেন। তাঁরা গান্ধীর আদর্শ বুকে ধারণ করে চলেছেন—তাঁরা জেলে যাওয়ার পথেও হেসেছেন, আবার আদালতকক্ষের ভেতরেও হেসেছেন। আপনারা তাঁদের মধ্যে ঘৃণা ঢোকাতে পারবেন না; ঘৃণা আসলে আপনাদের ভেতরেই আছে। আর সবাই পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে, আপনাদের এই ঘৃণা আজ দেশটিকে কোন জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে।’

দিপকের মতে, আন্দোলনকারীদের কারাবরণ কোনো বিশৃঙ্খল অভ্যুত্থানের চেষ্টা নয়। বরং এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একধরনের নৈতিক জাগরণ। তিনি বলেন, ‘সরাসরি কোনো তুলনা না টেনেই বলা যায়, মহাত্মা গান্ধী যা করেছিলেন এটি তারই প্রতিফলন। যখন তাঁকে জেলে পাঠানো হয়েছিল, তিনি নীরবে চলে গিয়েছিলেন। কারণ, ওটা ছিল তাঁর সত্যাগ্রহ। আশুতোষ ও সৌরভ ঠিক একই সত্যাগ্রহ পালন করছেন। কারাগারের ভেতরে সেই কষ্ট সহ্য করে তাঁরা এই দেশের বিবেককে জাগিয়ে তুলছেন। তাঁদের মুক্তির জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না।’

ভারতে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে সিজেপি ও বিরোধী দলগুলো। এই বিক্ষোভকে ফ্রান্স ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের সহিংস নাগরিক অস্থিরতার সঙ্গে তুলনা করার প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটি এ আন্দোলনকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক বলে বর্ণনা করেছে। তাদের ভাষ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাই এ আন্দোলনের লক্ষ্য।

ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একটি অভিযোগের পর কংগ্রেস এ কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়। বিজেপির অভিযোগ, ‘ভারতবিরোধী একটি চক্র’ বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অস্থিরতার মতো ভারতে ‘সরকার পরিবর্তনের’ জন্য পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত