×

ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মাধ্যমিকে শিক্ষক নিয়োগে পরিবর্তনের পরিকল্পনা সরকারের

২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৩:০৬:৩৬

মাধ্যমিকে শিক্ষক নিয়োগে পরিবর্তনের পরিকল্পনা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২৪৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘প্রফেশনালাইজেশন ফর এনহ্যান্সড লার্নিং প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রকল্পের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগেই প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বর্তমানে নিয়োগের পর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর সম্পূর্ণ অর্থ বিদেশি অনুদান থেকে সংগ্রহের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মেরামত এবং পেশাগত সেবা খাতে।

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে প্রকৃত অর্থে প্রাক্‌-চাকরিকালীন বা প্রি-সার্ভিস প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। অথচ শিক্ষকতার মতো পেশায় যোগ দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা ও মানসিক প্রস্তুতি অর্জন জরুরি। এ প্রয়োজন বিবেচনায় যোগ্য ব্যক্তিদের শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে প্রাক্‌-চাকরিকালীন শিক্ষক-শিক্ষা মডেল চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই মডেলের আওতায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে প্রি-সার্ভিস শিক্ষক প্রশিক্ষণ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া নিয়োগের আগের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও মানোন্নয়নের জন্য ‘শিক্ষক পেশাগতীকরণ নির্দেশিকা (টিপিজি)’ এবং ‘শিক্ষক পেশাগত উন্নয়ন কাঠামো (টিপিডিএফ)’ প্রণয়নের প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি কর্মরত শিক্ষকদের অব্যাহত পেশাগত উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান ১০টি প্রশিক্ষণ কোর্স হালনাগাদ করার পাশাপাশি নতুন করে আরও ১০টি কোর্স চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় শিক্ষা প্রশাসক, শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের চাকরিকালীন পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ কার্যক্রমে ২০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসক এবং দেড় হাজার প্রধান শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মাউশির কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেওয়ার আগে প্রশিক্ষণ দেওয়ার নতুন মডেল পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। পরে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, নাকি বাধ্যতামূলক করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইং) অধ্যাপক ড. মীর জাহীদা নাজনীন বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) ড. সরদার মো. কেরামত আলী বলেন, প্রকল্প প্রস্তাবটি এখনো অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত