ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
নিজের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সিনেমাকে বিদায় নাদির খানের
বিনোদন ডেস্ক: ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক ও প্রদর্শক বীর মুক্তিযোদ্ধা নাদির খান নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। সিনেমা জগতকেও বিদায় জানিয়েছেন তিনি। মৃত্যুর পর নিজের সমাধি কোথায় হবে, প্রায় ২০ বছর আগেই তা ঠিক করে রেখেছেন এই প্রবীণ অভিনেতা। নিজের জন্য খোঁড়া সেই কবরের পাশে দাঁড়িয়ে চিরসত্য মৃত্যুর অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। বিষয়টি সিনেমার গল্পের মতো শোনালেও এটাই বাস্তব।
ঢাকার রায়ের বাজারের প্রেমতলায় নিজের জন্য নির্ধারিত কবরটি নিয়মিত দেখতে আসেন নাদির খান। পরম মমতায় নিজ হাতেই পরিষ্কার করেন তাঁর শেষ শয্যা।
নাদির খান বলেন, ‘মৃত্যুর পর এখানেই হবে আমার শেষ ঠিকানা। কবরটার পাশে দাঁড়ালে এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করে। আমি মৃত্যুকে ভয় করি না। মহান আল্লাহ ও রাসুলকে (সা.) যারা ভালোবাসেন, তারা কখনোই মৃত্যুকে ভয় পান না।’
তিনি জানান, তাঁর কবরটি যেন কোনোভাবেই মাজারে রূপ দেওয়া না হয়।
নিজের জন্য খোঁড়া কবরের পাশে দাঁড়িয়ে নাদির খান বলেন, ‘আমি কোনো সাধক বা পীর-ফকির নই, আমি অত্যন্ত সাধারণ একজন মানুষ। আমাকে যারা ভালোবাসেন, মৃত্যুর পর তারা আমার কবর জিয়ারত করবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি এটাই চাই।’
নিজের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সিনেমা জগতকেও বিদায় জানিয়েছেন নাদির খান। একই সঙ্গে রুপালি পর্দায় দীর্ঘ পথচলায় নিজের জানা-অজানা ভুলত্রুটির জন্য চলচ্চিত্র পরিবার ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘আর কখনোই অভিনয়ে ফিরব না। জীবনের বাকি দিনগুলো আমি আল্লাহর ইবাদতে কাটাতে চাই।’
নাদির খান মনে-প্রাণে একজন মাতৃভক্ত সন্তান। তাঁর বিশ্বাস, পৃথিবীতে মায়ের চেয়ে বড় কোনো ধর্ম নেই। পরকালেও মায়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হবে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘জীবনে যা কিছু অর্জন করেছি তা আমার মায়ের দোয়ার ফসল। আমি এখনো মায়ের দোয়াতেই বেঁচে আছি। আমার কাছে পৃথিবীতে মায়ের প্রতি ভালোবাসাই হলো সবচেয়ে বড় ধর্ম।’
নাদির খানের শেষ ইচ্ছা, তাঁর লাশ যেন সর্বপ্রথম নিয়ে যাওয়া হয় প্রিয় কর্মস্থল এফডিসিতে। তিনি বলেন, ‘যৌবনের সোনালী দিনগুলো আমি এফডিসিতে কাটিয়েছি। যাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করেছি, সেই সহকর্মী ও চলচ্চিত্র পরিবারের মানুষরা যেন শেষবারের মতো আমাকে দেখতে পারেন। জানাজায় অংশ নিয়ে আমার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে পারেন।’
নাদির খান ১৯৫২ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকার রায়ের বাজারে জন্মগ্রহণ করেন। এই অভিনেতার ভাষ্যমতে, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় সাড়ে তিনশ সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো ‘কসাই’, ‘উপহার’, ‘চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা’, ‘জংলী রানী’, ‘মনিহার’, ‘দিলদার আলী’, ‘বেদের মেয়ে জোছনা’, ‘অমানুষ’, ‘আবদুল্লাহ’, ‘রঙিন রসের বাইদানী’, ‘ইতিহাস’, ‘কাবুলিওয়ালা’।
তাঁর প্রযোজিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো ‘গরীবের বিচার নাই’, ‘রঙিন রসের বাইদানী’, ‘আখেরী জবাব’, ‘আবদুল্লাহ’, ‘স্বামী হারা সুন্দরী’। উল্লেখযোগ্য পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘স্বামী হারা সুন্দরী’।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩ সেপ্টেম্বর)
- জেনে নিন একাদশ-আলিমে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের ফল প্রকাশ
- সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ স্থগিত
- নবম পে-স্কেল অনুমোদন, বেতন বাড়ল কত
- শিক্ষক নিয়োগ দেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
- জিয়া উদ্যানের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাত করতে চান ট্রাম্প