×

ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন

২০২৬ আগস্ট ২৪ ১৪:৪৬:৩৫

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মজিবুর রহমান রোববার ডনকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২৭ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেন।

যে কারণে রিমান্ড চায় সিআইডি

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে রিমান্ড চাওয়ার তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন।

সিআইডির দাবি, ডনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সালমান শাহ হত্যার অভিযোগের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলায় তাঁর সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে এবং কার প্ররোচনায় বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, সে বিষয়েও তথ্য বের করা প্রয়োজন।

গত ৯ আগস্ট ভোরে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে ডনকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। একই দিন তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

যেভাবে হত্যা মামলা হলো

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে রমনা থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছিল।

দীর্ঘদিন পর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরদিন, ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় যারা আসামি

মামলায় সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ, লতিফা হক লুছি, আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পরের যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন।

তবে মামলায় অভিযুক্ত কেউ মারা গিয়ে থাকলে, বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাঁকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত্যুর দিনের বর্ণনা

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় ছেলের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, সালমান ঘুমিয়ে আছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের অসুস্থতার কথা জানান। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাসায় ফিরে তাঁকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান।

পরে তাঁকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, হাসপাতালে নেওয়ার পথে সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখ ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পেয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরীও ছেলের মৃত্যুকে হত্যা হিসেবে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে আবেদন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর মামলাটি তাঁর বোনের পক্ষ থেকে পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ আলমগীর।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত